Money

এডিপিঃ টাকা তুমি সময় মতো আইলা না

January 9, 2018
ADP Image

জানুয়ারী ৫ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিক রিপোর্ট প্রকাশ করে, এডিপি’র ২৫% টাকা খরচ করতে পারেনি অর্ধেক মন্ত্রণালয়। বছরের অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও তারা চার ভাগের এক ভাগ বরাদ্ধ খরচ করতে পারেনি।

মোট মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৫৫টি।

এর মধ্যে অর্ধেকের অবস্থাই এমন। আর বাকিদের অবস্থাও যে এদের থেকে ভালো তেমনটা নয়। বাকিদের মধ্যে মাত্র তিনটি মন্ত্রণালয় তাদের বরাদ্ধের ৫০% এর বেশি খরচ করতে পেরেছে।

আমাদের দেশের মিডিয়াতে এডিপি নিয়ে বছরে কয়েকটা রিপোর্ট প্রকাশ হয়। সব রিপোর্টের ভাষা প্রায় একই।

অর্থ বরাদ্ধের কতো শতাংশ খরচ করতে পেরেছে, কতো পারেনি, কতো কাট ছাট করা হয়েছে, কতোগুলো মন্ত্রণালয় কতো খরচ করতে পেরেছে ইত্যাদি।

এর বাইরে গিয়ে কেন খরচ করতে পারেনি, কিসের অভাব ছিলো, বছরের কোন সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পগুলোতে টাকা ছাড় হয়েছে, প্রকল্পগুলো বছরের কোন সময়ে টাকা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলো এই বিষয়গুলো রিপোর্ট থেকে খুব কমই পাওয়া যায়।

আমাদের এমন অবস্থা দাড়িয়েছে টাকা খরচ করতে পারাকে ভালো দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যে টাকাটা খরচ হচ্ছে তা ঠিকমত খরচ হচ্ছে কিনা সেটা বড় বিষয় নয়। আর যেখানে টাকাই খরচ করতে পারে না সেখানে ঠিক-বেঠিক তো পরের বিষয়।

চলতি অর্থবছরে মূল এডিপির আকার ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

আমাদের সড়ক ব্যবস্থার কি হাল তা আমরা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে রাস্তায় বের হলেই টের পাই। আর বেশিদিন লাগবে না সবার ফুসফুসের প্রবলেম দেখা দিতে। সবার পেট অপারেশন করলে কয়েক কেজি করে ধুলা পাওয়া যাবে।

সেখানে তাদের পারফর্মেন্স হলো, তাদের মোট ১১৪টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্ধ ছিলো ৭ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। তারা ছয় মাসে দেড় হাজার কোটি টাকাও খরচ করতে পারেনি।

বর্তমান সরকার যখন প্রথম দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় তখন দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অবস্থা ছিলো খুবই করুণ। তখন শুনা গিয়েছিলো যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক করার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা তাদের নেই।

কিন্তু সময়ের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হচ্ছে। বর্তমান মন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর অনেক গতি পেয়েছে। তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু তারপরও উপরের রিপোর্ট পরে হতাশা ব্যক্ত করা ছাড়া উপায় নেই।

সেই সময় পেরিয়ে এখন মন্ত্রণালয়ে প্রচুর অর্থ বরাদ্ধ রয়েছে।

ঢাকাতে সব রাস্তায় কাজ করা দরকার। সব রাস্তায় খুড়াখুড়ি চলে সারা বছর ধরে। ধুলাবালি। মানুষ এই ধুলাবালি থেকে রক্ষার জন্য মাস্ক পরে রাস্তায় বের হন।

সেখানে টাকা থেকেও রাস্তার অবস্থার কোন উন্নতি হচ্ছে না। এতো অ্যাক্টিভ মন্ত্রী থেকেও যদি এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র এই হয় তাহলে অন্য মন্ত্রণালয় থেকে সাধারন মানুষ কি আশা করবে?

এডিপির সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রতি মাসে নিয়ম করে পর্যালোচনা সভা হয়। কিন্তু এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতির চিত্র আর বদলায় না।

বছরের শুরুতে অনেক বড় আকারের এডিপি পাস করা হয়। কিন্তু পরে তা কাট ছাট করে ছোট করা হয়। তারপরও পূরণ করা হয়ে উঠে না।

পরিকল্পনামন্ত্রী এডিপি বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন। এবং তাদের সাথে তিনি ধারাবাহিক পর্যালোচনা সভাও করেন। কিন্তু কোন উন্নতি নেই।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জা মো আজিজুল ইসলাম বলেছেন, আগে থেকে বুঝা যায় মন্ত্রণালয়গুলোতে কি পরিমান অর্থ বরাদ্ধ থাকতে পারে। তাই বাজেট পাসের আগেই প্রকল্পের কেনাকাটার প্রাক্কলন থেকে দরপত্র প্রক্রিয়া প্রায় চূরান্ত করা সম্ভব। বাজেট পাসের পরদিন যাতে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া যায়।

ভালো প্রস্তাব।

এখনে যে কাজটা সবার আগে দরকার তাহলো, যেহেতু প্রতি বছর এডিপি-তে বিশাল টাকা বরাদ্ধ থাকে দেশের উন্নয়নের জন্য এবং প্রতিটা মন্ত্রণালয়েই অনেক প্রকল্প থাকে তাই প্রতিটা মন্ত্রণালয়ে পৃথক একটি ইউনিট গঠন করতে পারে।

তারা স্থায়ীভাবে প্রতি বছর বাজেটে পাস হওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কাজ করবে। এতে করে প্রতি বছরে প্রকল্প পরিচালনার জন্য আলাদাভাবে জনবল নিয়োগ করতে হবে না। সময়ক্ষেপণ হবে না।

প্রকল্প পাস হওয়ার পর সাথে সাথেই প্রতিটি মন্ত্রণালয় টেন্ডাররের কাজ শুরু করে দিবে। এবং মনিটরিং করতে হবে নিয়মিত যাতে করে কন্ট্রাক্ট-এ উল্লেখিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

বাইরে থেকে যে দাতা সংস্থাগুলো সরকারকে টাকা দিয়ে থাকে সেসব প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক স্পেশালিস্ট নিয়োগ দেয়ার শর্ত থাকে। এতে করে কাজটা ভালো এবং দ্রুত হয়।

মূলত প্রকিউরম্যান্ট স্পেশালিস্ট এবং ফাইনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট বা এফএমএস নিয়োগ দিয়ে থাকে। তারা মাসে দশ থেকে বারো দিন প্রকল্পে কাজ করে থাকেন।

সরকারও এখন প্রকল্পগুলোতে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য এবং প্রতি বছর সমালোচনার হাত থেকে বাচার জন্য এই উদ্যোগ নেয়ার কথা ভেবে দেখতে পারে। সরকারের নিজস্ব কর্মীবাহিনীর সাথে চুক্তিভিত্তিক স্পেশালিশটরা কাজ করলে ভালো ফল দিবে।

এখন সবই হলো। কিন্তু টাকা লাগবে।

রিপোর্টে যে বিষয়টা বারবার উল্লেখ করা হয় যে টাকা খরচ করার সামর্থ মন্ত্রণালয়গুলোর নেই।

এটা পুরুপুরি সত্যি নয়।

টাকা ছাড় হয়ই বছরের কয়েকটা মাস চলে যাওয়ার পর। তাই প্রথম ছয় মাস যতোবারই রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে ততবার একই চিত্র আসবে।

যারা প্রকল্পগুলোতে কাজ করেন তারা জানেন, সরকারের কাছ থেকে টাকা বরাদ্ধ হতে থাকে জানুয়ারী থেকে। এর আগে হলেও তার পরিমান খুবই সামান্য।

মার্চ থেকে বাড়তে থাকে। এবং শেষ দুই মাস প্রচুর টাকা যেতে থাকে।

এই দুই মাসই মূলত টাকা খরচ করার হিরিক লেগে যায়।

তখন কিভাবে এই বিশাল পরিমান টাকা খরচ করা হবে এবং সমন্বয় করা হবে সেই চিন্তাই মাথায় থাকে। ভালোভাবে টাকা খরচ করার সময় এবং সুযোগ তখন আর থাকে না।

এর বাইরেও অনেকেই হয়তো বলবেন, প্রকল্পগুলো ঠিক সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ার পিছনে রয়েছে টেন্ডারবাজি, দলীয় প্রভাব, কোন্দল ইত্যাদি।

এই সমস্যাগুলো সমাধানের আপাতত আলাদীনের কোন চেরাগ নেই। তাই অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নেই।

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply

Shares