Money

বিজনেস রিভিউ ২০১৬

January 9, 2018
Business Review 2016

ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনা চলেছে বছর জুড়ে। ইউকে, ইইউ এবং সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কি হবে এই নিয়ে নানা ঝল্পনা-কল্পনা চলেছে।

দেশে এটিএম কার্ড জালিয়াতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, সুদের হারের নিন্মমুখী, আবাসন খাতের নিন্মগতি সবই ছিলো বছর জুড়ে আলোচনার বিষয়।

আয়নাবাজি মুভি রিলিজ, বাউলদের ‘আসো মামা হে’ এবং ‘লোকাল বাস’ যেমন দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে তেমনি হয়েছে ব্যবসা সফল।

পাশের দেশে সুলতান, দঙ্গল, ডিয়ার জিন্দেগী মুভির মত ব্যবসা সফল মুভি রিলিজ পেয়েছে।

আবার মুভি ডিরেক্টর করন জোহর বিপদে পড়েছেন পাকিস্তানি তারকাদের নিয়ে মুভি বানিয়ে। তার ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ নিয়ে প্রথমে বিপাকে থাকলেও পরে মুভিটি রিলিজ পায়।

এদিকে তরকারিওয়ালি এবং চাওয়ালা-র ভাগ্য বদলে যায় সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে। তারা রাতারাতি হয়ে উঠেন জনপ্রিয় এবং ব্যবসায়ী থেকে মডেল তারকা।

এমনি ঘটনাবহুল ছিলো ২০১৬ সাল।

২০১৬ জুড়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিলো ব্রেক্সিট।

ইউকে ইইউ থেকে বেড়িয়ে গেলে তাদের অর্থনীতির উপর কি প্রভাব ফেলবে, ইইউর কি হবে এবং সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থার কি হবে এইসব নিয়ে চলেছে নানা আলোচনা।

গণভোটে যখন রায় আসে ইউকে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার তখন সবাইকে হতাশ করে নিউজটা।

সাথে সাথে ইউকের পাউন্ড এর অবমূল্যায়ন হয়। শেয়ারের দর পতন হয়।

যদিও সেটা আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠতে থাকে।

কিন্তু তাদের মুদ্রার বিনিময় হারের যে পতন হয়েছে যা গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বহুগুণে বেড়ে যায়। যার ধাক্কা লাগে দ্রব্যমূল্যের উপর। যেখানে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে তাদের প্রবৃদ্ধি ছিলো সবচেয়ে বেশি সেখানে তাদের অবস্থান নিচে চলে যায়।

তাদের অর্থনৈতিক এই বেহাল অবস্থা রক্ষা করার জন্য ব্যাংক ইন্টারেস্ট রেট কমিয়ে ০.৫%-এ নিয়ে এসেছে। তারপরও তাদের শংকা কাটছে না।

বছরের শেষের দিকে এসে নভেম্বরের ৮ তারিখে ইনডিয়ান সরকার কয়েক ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সবচেয়ে সার্কুলেটেড ব্যাংক নোট (৫০০ এবং ১,০০০ রুপির নোট) বন্ধ করে দেয়।

এতে করে বিপাকে পড়ে যান সেদেশের সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে সে দেশে ভ্রমণ করতে যাওয়া টুরিস্টরাও।

এই নোট বন্ধের পিছনে যুক্তি হলো কালো টাকা বন্ধ করা, আয়কর ফাকি রোধ করা, ঝাল নোট বন্ধ করা এবং জঙ্গি অর্থের সরবরাহ বন্ধ করা।

৩০ ডিসেম্বর এর পর এই নোট আর কোথা থেকেও বিনিময় করা যাবে না।

এর ধাক্কা এসে পড়েছে স্বভাবতই দেশের অর্থনীতির উপর। ইতোমধ্যেই সেদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির হার ০.৫% কমিয়ে এনেছে। তবে অনেকেই বলছেন এর প্রভাব আরো অনেক বেশি হবে।

ইনডিয়ান সরকার বলছে এতে করে দেশের দীর্ঘ মেয়েদে সুফল বয়ে আনবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে সুফল নিয়ে আসবে তা কি এখন তারা যে পেইন পাচ্ছে তার থেকেও বেশি হবে?

তেলের নিন্ম মূল্য এখনও বজায় রয়েছে।

তেলের মূল্য পুনরুত্থানের জন্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো তেল উত্তোলনের পরিমান কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য কম থাকার পরেও তা কমাচ্ছিলো না বিপিসি-র লোকসান কমানোর জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কমিয়েছে। শুনা যাচ্ছে আসছে বছর তেলের দাম আরো কমবে।

যাই হোক, তেলের মূল্য কমে যাওয়াতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ হচ্ছে। যেমন নাইজেরিয়া। তাদের অর্থনীতি ক্রমশই সংকোচিত হচ্ছে, মুদ্রার অবমূল্যায়ন হচ্ছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ক্রমশ দ্রুত গতিতে বেড়েই চলেছে।

তবে সে দেশের কেউ কেউ বলছেন, এতে করে বরং তাদের একটা দিকে ভালোই হয়েছে। তারা তেলের উপর এককভাবে নির্ভরতা এখন থেকে কমিয়ে আনতে চেষ্টা করবে। অন্যদিকে তাদের আয়ের উৎস বাড়ানোর দিকে এখন নজর দিবে।

২৭ ডিসেম্বর দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস একটা রিপোর্ট প্রকাশ করে যাতে বলা হয়, ঢাকার এয়ারপোর্ট থেকে পোস্তগলা এই রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের কারনে প্রতি বছর ২৭৩ বিলিয়ন টাকা ক্ষতি হচ্ছে।

এই হিসেব করেছেন ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ গবর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট। জ্যামের মধ্যে বসে থেকে মানুষের সময় নষ্ট এবং পরিবহনের জ্বালানি তেলের মূল্য বিবেচনায় নিয়ে এই হিসেব দেখিয়েছে সংস্থাটি।

বলা হচ্ছে ৯০% আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে মানুষের সময় জ্যামের মধ্যে বসে থেকে আর বাকি ১০% হচ্ছে পরিবহনের জ্বালানির খরচের জন্য। ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এর জন্য দায়ী।

আর এদিকে সুদের হার কমে যাওয়াতে বিপাকে পড়েছেন সুদের উপর নির্ভরশীল মানুষ।

বাংলাদেশে আগে যেখানে দুই ডিজিটের ঘরে ছিলো সুদের হার তা কমতে কমতে ৫%-৬%-এ নেমে এসেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন বয়স্ক মানুষেরা। তাদের ডিপোজিট থেকে মাসিক আয়ের পরিমান কমে গেছে।

যদিও ব্যাংকগুলোতে সুদের হার কম কিন্তু সরকার যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করছে তার সুদের হার কোনটারই ১১% এর নিচে নেই। তাই সবাই এখন বেশি আয়ের জন্য সঞ্চয়পত্র কিনছেন।

জানা যায়, প্রতিদিন ২০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে। এতে করে সরকারের ঋণের পরিমান বেড়ে যাচ্ছে এবং একই সাথে সুদ পরিশোধের পরিমানও বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাংকে অলস টাকার পরিমান ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

আবাসন খাতেও মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। ফ্ল্যাট রেট অনেক কমে গেছে।

কিছুদিন আগেই রিহ্যাব ফেয়ার হয়েছে আগারগাও-এ। সেখানে ক্রেতা সাধারন মাঝারি থেকে ছোট সাইজের ফ্ল্যাটের খুজ করেছেন বেশি।

একদিকে যেমন ফ্ল্যাটের দাম কম অন্য দিকে ব্যাংকের সুদের হার কম। তাই এই সুযোগে ফ্ল্যাট কিনতে খুজ নিচ্ছেন কিছু ক্রেতা।

বেশি আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ জমা ছিলো আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউ ইয়র্ক-এ। সেখান থেকে ৮.১০ কোটি ইউএস ডলার হ্যাকিং করে সরিয়ে নেয় সাইবার অপরাধীরা।

পরে সেখান থেকে কিছু পরিমান অর্থ ফিরিয়ে আনতে পারলেও এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এই ঘটনার জের ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান তার পদ থেকে সরে দাড়ান।

কাছাকাছি সময়েই, কয়েকটি ব্যাংক থেকে এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে কাস্টমারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো একটি চক্র। পরে তা জানাজানি হলে এর সাথে জড়িত কয়েকজন ধরা পরে।

তখন কথা উঠেছিলো বাংলাদেশ ব্যাংক যেখানে নিজের অর্থেরই নিরাপত্তা দিতে পারেনা সেখানে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে কিভাবে অন্য ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বছরের অনেকটা সময় ধরে রবি-এয়ারটেল দুই মোবাইল অপারেটর কোম্পানি মার্জ হওয়ার খবর মিডিয়াতে এসেছে নিয়মিতভাবে। এটা ছিলো বাংলাদেশের একটি বড় মার্জার এর ঘটনা।

আর ২০১৬ সালে প্রথম বারের মত ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবস হিসেবে পালিত হয়েছে। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছিলো।

এবং প্রথমবারের মত অনলাইনেও আয়কর রিটার্ন সাবমিট করার প্রচলন শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নিজেও এবার অনলাইনে তার আয়কার রিটার্ন সাবমিট করেছেন।

এবার জর্দা বিক্রেতা কাউছ মিয়া সবচেয়ে বেশি আয়কর দিয়ে আলোচনায় আসেন। সবার নজর কাড়ে এই খবর।

টানা তিনবার দেশের নামি-দামি ব্যবসায়ীদেরকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করে নেন। মাত্র আড়াই হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে এখন তিনি প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার মালিক।

আশ্চর্যজনক হলো তার কোন ব্যাংক লোন নাই।

অন্যদিকে আমাদের দেশের অনেক বড় বড় ব্যবসায়ীদেরই ঋণ খেলাপি হওয়ার খবর শুনে থাকি। অনেকেই সোস্যাল মিডিয়াতে তাকে স্যলুট জানিয়েছেন।

মুভি
বিজ্ঞাপন ও নাট্যনির্মাতা অমিতাভ রেজা আয়নাবাজি মুভি রিলিজ দিয়ে এবছর বাংলাদেশী মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে আবার আশার আলো ছড়িয়েছেন। হল বিমুখ দর্শকদের আবার তিনি হলমূখী করেছেন।

তার আয়নাবাজি মুভি কয়েক মাস ধরে সারা দেশে যেমন অভিজাত স্টার সিনেপ্লেক্সে চলছে তেমনি মফস্বলের হলগুলোতেও চলছে। সবখানেই হাউজফুল ছিলো।

এখন পর্যন্ত মুভিটা মোট কত টাকা ব্যবসা করতে পেরেছে তা জানা যায়নি।

মুভিটা এক পর্যায়ে অনলাইনে দর্শকদের দেখার জন্য চুক্তিতে আসে একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সাথে। কিন্তু অনলাইনে আসার সাথে সাথেই পাইরেসির কবলে পড়ে জনপ্রীয় এই মুভিটি।

পরে তা তুলে নেয়া হয়।

এবং মুভির কলা-কুশলীরা দর্শকদের অনুরোধ করেন তারা যেন পাইরেট করা মুভি না দেখেন।

তবে অনেকেই বলেন, মুভিটা অনলাইনে আসার আগে যথাযথ ট্যাকনিক্যাল বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়নি। আয়নাবাজি মুভির আগে মনপুরা মুভিটা ব্যাপক দর্শক প্রিয়তা পেয়েছিলো। এবং ব্যবসা সফল হয়েছিলো।

জানা গেছে, বাংলাদেশে ২০১৬ সালে মোট ৫৯টি মুভি রিলিজ পেয়েছে।

এর মধ্যে কেবল চারটি মুভি ব্যবসা সফল হয়েছে। বাকি ৫৫টি মুভিই আর্থিকভাবে লোকশানের মুখ দেখেছে।

বাংলাদেশের মুভি জগতে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করছেন শাকিব খান। তার মোট আটটি মুভি রিলিজ পায় ২০১৬ সালে। তার মধ্যে তিনটি মুভি ব্যবসা সফল হয়। আর বাকি পাচটি মুভিই বিনিয়োগের টাকাই তুলতে পারেনি।

মুভির এই বেহাল অবস্থার কারনে অনেক মুভি হলই বন্ধ হয়ে সেখানে শপিং মল তৈরি হচ্ছে যা কয়েক বছর ধরে খবর বেড়িয়ে আসছিলো। এরকম চলতে থাকলে এক সময় কেউ হয়তো আর মুভি বানাবেন না আর মুভি হলও একদিন অনেক কমে আসবে।

এদিকে আমাদের পাশের দুই দেশ ইনডিয়া-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে দুই দেশেরই মুভি জগৎ ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এর ফলে বিপাকে পড়েন পাকিস্তানি তারকাবহুল মুভি ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ এবং শাহরুখ খানের ‘রইস’-সহ কিছু মুভি।

করন জোহর পরে কথা দেন ভবিষত-এ তিনি আর কোন পাকিস্তানি তারকাকে নিয়ে মুভি বানাবেন না। তারপরই তার মুভি রিলিজ দেওয়া হয়। এই মুভির একটা গান ‘বুলিয়া’ খুবই জনপ্রিয়তা পায়।

বছরের একেবারে শেষ দিকে এসে ২৩ ডিসেম্বর আমির খানের মুভি ‘দঙ্গল’ রিলিজ পায়। এই মুভি রিলিজ পাওয়ার আগে অনেক আলোচনা চলতে থাকে মিডিয়াতে। তার বডি ভাঙা-গড়ার ভিডিও ইউটিউবে অনেক হিট হয়।

মুভি রিলিজের প্রথম দিনই ৩২ কোটি রুপি আয়ের রেকর্ড গড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। ইনডিয়াতে নোট বাতিলের পর এই সাফল্যে সবাই খুশি হয়েছেন।

সুলতান মুভি প্রথম দিনে আয় করেছিলো ৩৬ কোটি রুপি।

তবে দঙ্গল যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে আশা করা হচ্ছে অন্য মুভিগুলো থেকে উপরেই থাকবে শেষ পর্যন্ত এই মুভিটি।

তবে জানা গেছে মুভিটি প্রথম দিনই পাইরেসির কবলে পড়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, মুভি হল থেকে কেউ মোবাইলে মুভিটি ভিডিও করে অনলাইনে ছড়ে দিয়েছে।

একই ধরনের মুভি সালমান খান অভিনিত ‘সুলতান’ কয়েক মাস আগে রিলিজ পায়। সেই মুভিও ব্যবসা সফল হয়। পরে আমির খান বলেছেন তার সুলতান মুভি থেকেও আমির খানের ‘দঙ্গল’ মুভি ভালো হয়েছে।

ব্যাতিক্রমী এক চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন শাহরুখ খান। তার মুভি ‘ডিয়ার জিন্দেগী’ ব্যবসায়িক ভাবে সফল হলেও মুভিটা তেমন ভালো লাগেনি।

আগে একটা মুভি ব্যবসা সফল হলে পরে তার সিক্যুয়াল আসতো। এখন সেটার প্রিক্যুয়েল আসছে। হ্যারি পটার লেখিকা জে কে রাউলিং-এর কাহিনি নিয়ে ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্ট অ্যান্ড হোয়ার টু ফাইন্ড দেম’ মুভিটি ব্যবসা সফল হয়েছে।

আর এদিকে অ্যানিমেশন মুভির জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এবং মুভিগুলো ব্যবসা সফলও হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, বাস্তব জীবনের নায়ক নায়িকারা যেমন অনেক জনপ্রিয় হচ্ছেন তেমনি ভার্চুয়াল এই চরিত্রগুলোও আস্তে আস্তে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

মিউজিক
গান শুনার বিভিন্ন মাধ্যম পরিবর্তন হতে হতে এখন ইউটিউব, বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম, অন লাইন রেডিও, এফএম রেডিও নির্ভর হয়ে উঠেছে।

ক্যাসেট, সিডি/ডিভিডির যুগ শেষ হয়ে অনলাইন নির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই ইন্ডাস্ট্রির দিক পরিবর্তন হয়েছে।

আগে বসুন্ধরা বা অন্য শপিংমলগুলোতে যেখানে সিডি/ডিভিডির দোকান ছিলো সেখানে এখন দখল করে নিয়েছে মোবাইল সেটের দোকান।

এই বছরে কুদ্দুস বয়াতির ‘আসো মামা হে’ এবং মমতাজের ‘লোকাল বাস’ জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনেক। দুটি গানই বাউলদের-কে নিয়ে ফিউশন আর হিপ হপ-এর মিশ্রণে করা হয়েছে।

আগে ক্যাসেট বা সিডি/ডিভিডি বিক্রি করে টাকা আয় করতেন গানের সাথে জড়িত শিল্পীরা। এখন তাদের আয় আসে অনলাইন বিক্রি থেকে।

তারা কেমন আয় করেছেন দুটি গান থেকে তা জানা যায় নি। যদিও বাংলাদেশে এখন এই মাধ্যম এখনো ততটা দক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি।

যেহেতু গানের সিডি/ডিভিডি এখন আর বিক্রি হয়না তাই গানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে আসা শুরু করেছে। ইউটিউবে তারা চ্যানেল খোলে গান আপলোড করা শুরু করেছে। তাদের গান শ্রোতারা সেখানে শুনছেন।

আগে কতো সিডি/ডিভিডি বিক্রি হতো তা দেখে ব্যবসা কত হয়েছে তা নির্ধারণ করা হতো।

আর এখন একটা গান কতোবার দেখা হয়েছে তা দেখে জনপ্রিয়তা বা ব্যবসা সফল হয়েছে কিনা তা জানা যায়। তবে বাংলাদেশী এই প্রতিষ্ঠানগুলো ইউটিউব থেকে কত আয় করেছে তা জানা যায়নি।

এ বছর সবার নজর কেড়েছে গান বাংলা মিউজিক চ্যানেলের ‘উইন্ড ইফ চেইঞ্জ’ মিউজিক আয়োজন। তাদের চমৎকার পরিবেশনা ভালো লেগেছে।

তবে লাইভ প্রচার থেকে যারা শুধু গানে কন্ঠ দেন তারাই একটা সম্মানি পেয়ে থাকেন। কিন্তু এর সাথে আরো যে সব শিল্পীরা জড়িত থাকেন তারা সেখান থেকে কোন সম্মানি পান না।

বাইরের মিউজিক জগতে কার আয় কতো তার একটি তালিকা বের হয়েছে।

সেখানে দেখা গেছে ‘ব্ল্যাক স্পেস’-এর গায়িকা টেলর সুইফট আছেন সবার উপরে। তার মোট আয় প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা।

তার পরেই আছেন যথাক্রমে আমেরিকার ব্যান্ডদল ওয়ান ডিরেকশন এবং ইউকের অ্যাডেল।

টেলিভিশন
বাংলাদেশের প্রাইভেট টেলিভিশনে বাইরের দেশের সিরিয়াল বাংলায় ডাব করে প্রচার করার হিরিক লেগে যায় ২০১৬ সালে।

প্রথমে দীপ্ত টেলিভিশন ‘সুলতান সুলেমান’ সিরিয়াল প্রচার করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে আবার দর্শকদের অনুরুধে পুনঃপ্রচার হতে থাকে টেলিভিশনটিতে।

এর দেখা দেখি অন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও বিদেশি সিরিয়াল ডাব করে প্রচার করতে থাকে।

এতে করে বিনোদন জগতের কলা-কুশলীরা আন্দোলনে নামেন। অভিযোগ আসে এতে করে তাদের আয় কমে যাচ্ছে। বিদেশি সিরিয়ালের উপর আমাদের টেলিভিশনগুল নির্ভর হয়ে পড়ছে।

কিন্তু টেলিভিশন এর সাথে জড়িতরা বলছেন, দেশে মানসম্মত অনুষ্ঠান নির্মাণ হচ্ছে না বলেই তারা বিদেশি সিরিয়ালের দিকে যাচ্ছেন।

আরেকটি অভিযোগ উঠে, বাংলাদেশী পণ্যের বিজ্ঞাপন ইনডিয়াতে দেওয়ার ফলে বছরে ৪০০ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর সাথে দেশি চ্যানেল বিজ্ঞাপনের বাজার হারাচ্ছে।

এই নিয়ে চ্যানেলগুলো আন্দোলন শুরু করলে এক পর্যায়ে এসে তা বন্ধ হয়। কিন্তু এখনও জি-বাংলা বা স্টার জলসা টিভি-তে মাঝে মধ্যে দুই একটা বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে।

জানা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার আছে, যদি কোন দেশে পণ্য বিক্রি করা হয় তাহলে সেদেশে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে। এখন তারা এই সার্কুলার বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।

সোস্যাল মিডিয়া
এই বছর চমক হিসেবে সবারই মনে থাকার কথা তরকারিওয়ালি কুসুম শ্রেষ্টা এবং চা-ওয়ালা আরশাদ খানের কথা।

সবুজ চোখের তরকারিওয়ালি সবজি বিক্রি করতে গিয়ে এক ক্যামেরাম্যানের ক্যামেরায় ধরে পরেন। এবং সোস্যাল মিডিয়াতে আসার সাথে সাথে লাইক, শেয়ার হয়ে ছড়িয়ে পরে।

তিনি মডেল হওয়ার অফার পেয়েছেন।

আর নীল চোখের চাওয়ালা আরশাদ খান চা বিক্রি করতে গিয়ে ক্যামেরায় ধরা পড়েন। তার ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সোস্যাল মিডিয়াতে।

পরে তিনি চাওয়ালা থেকে হয়ে উঠেন মডেল। ঘুরে যায় তাদের ভাগ্য। ব্যবসায়ী থেকে হয়ে উঠেন মডেল তারকা।

গুডবাই ২০১৬!

হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০১৭!!

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply

shares