Tax

আয়কর রিটার্ন দাখিল করা কি বাধ্যতামূলক?

January 13, 2018
Tax Return Submission Image

আপনি কি মোটরযান (গাড়ি, থ্রি-হুইলার, মোটরবাইক ইত্যাদি) এর মালিক? এবং এই মোটরযান কি আপনি উবার বা পাঠাও-তে দিয়েছেন? তাহলে এবার আপনাকে বাধ্যতামূলক আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

বা ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আপনার করযোগ্য আয় কি ২৫০,০০০ টাকা অতিক্রম করেছে? বা আপনি কি সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং আপনার মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা বা তার বেশি? বা কোন ব্যবসায় বা পেশায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে চাকরী করেন?

উপরের প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যা হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে বাধ্যতামূলকভাবে এ বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। এর বাইরেও যে সব ব্যক্তিদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয় তা আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-তে উল্লেখ রয়েছে।

আয়কর রিটার্ন কি এবং কোথায় পাওয়া যায়

একজন করদাতার বার্ষিক আয়ের তথ্যাবলী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর নির্ধারিত ফরমে উপস্থাপন করার মাধ্যম হলো আয়কর রিটার্ন। আয়কর রিটার্ন দাখিল করার জন্য নির্ধারিত ছাপানো ফরম আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতি বছর করদাতাদের কাছ থেকে আয়কর সংগ্রহ করার জন্য এই ফরম প্রকাশ করে থাকে। বিনা মূল্যে যে কোন আয়কর অফিস থেকে এই ফরম সংগ্রহ করা যায় বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর ওয়েবসাইট থেকেও ডাউনলোড করা যায়।

কাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক

সাধারনভাবে বলতে গেলে, কোন ব্যক্তির কোন বছরে যদি করযোগ্য আয় ২৫০,০০০ টাকা অতিক্রম করে তাহলে তাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। তবে করমুক্ত সীমা ২৫০,০০০ টাকা ক্ষেত্র বেধে ভিন্ন হতে পারে। যেমন, মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতার ক্ষেত্রে এই সীমা ৩ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী করদাতার ক্ষেত্রে ৪ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার ক্ষেত্রে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এখন ধরুন আপনি কোন বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছিলেন কিন্তু পরবর্তি কোন বছর আপনার আয় সেই সীমা অতিক্রম করে নি তাহলেও আপনাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে যেতে হবে। এমতাবস্থায়, আয় বছরের পূর্ববর্তী তিন বছরের যে কোন বছর আপনার যদি করযোগ্য আয় হয়ে থাকে এবং তার জন্য কর দিয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

তবে নিন্মবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে আয়ের পরিমান যা-ই হোক না কেন, ব্যক্তি করদাতাকে সংশ্লিষ্ট আয় বছরের জন্য আবশ্যিকভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবেঃ

১। কোন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার চাকরীজীবী;

২। কোন ফার্মের অংশীদার;

৩। সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হয়ে আয় বছরের যে কোন সময় ১৬,০০০ টাকা বা তদূর্ধ্ব পরিমান মূল বেতন আহরণ করে থাকলে;

৪। কোন ব্যবসায় বা পেশায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে, যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, বেতনভোগী কর্মী হয়ে থাকলে।

এর বাইরে কিছু ক্ষেত্রে শর্ত সরূপ আয়কর রিটার্ন দেখাতে হয়। যেমন, জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী, সমাজের কোন প্রতিষ্ঠীত ক্লাবের সদস্য ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে এমন শর্ত রয়েছে যে বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আয়কর রিটার্ন দাখল করতে হবে সেগুলো হলোঃ

১। মোটর গাড়ির মালিক (মোটর গাড়ি বলতে জীপ বা মাইক্রোবাসকেও বুঝাবে);

২। মূল্য সংযোজন কর আইনের অধীন নিবন্ধিত কোন ক্লাবের সদস্য;

৩। কোন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ হতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে কোন ব্যবসা বা পেশা পরিচালনা করে থাকেন এমন ব্যক্তি;

৪। চিকিৎসক, দন্তচিকিতসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি অথবা সার্ভেয়ার হিসেবে বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে কোন স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার নিবন্ধনভূক্ত ব্যক্তি;

৫। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে নিবন্ধিত আয়কর পেশাজীবী;

৬। কোন বণিক বা শিল্প বিষয়ক চেম্বার বা ব্যবসায়িক সংঘ বা সংস্থার সদস্য;

৭। কোন পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের কোন পদে বা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়া;

৮। কোন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা বা কোন স্থানীয় সরকারের কোন দরপত্রে অংশগ্রহণকারী;

৯। কোন কোম্পানির বা কোন গ্রুপ অফ কোম্পানিজের পরিচালনা পর্ষদে থাকা।

১০। রাইড শেয়ারিং ব্যবসায় (উবার, পাঠাও ইত্যাদি) অংশগ্রহণকারী মোটরযান (গাড়ি, থ্রি-হুইলার, মোটরবাইক ইত্যাদি) মালিক।

রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা

আমাদের আয়-বর্ষ জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত। এর পর থেকেই অর্থাৎ জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করা শুরু হয়ে যায়। টানা চলতে থাকে কর দিবস পর্যন্ত। বাংলাদেশে কর দিবস পালিত হয় ৩০ নভেম্বর। অর্থাৎ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত যে কোন ব্যক্তি করদাতা তার আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

রিটার্ন দাখিল না করলে কি হয়

উপরে বর্ণিত কোন ব্যক্তি যদি সময়মত আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হন তাহলে জরিমানাসহ অতিরিক্ত সরল সুদ এবং বিলম্ব সুদে দন্ডিত হবেন। তবে কোন করদাতা অতিরিক্ত সময়ের জন্য উপ কর কমিশনারের নিকট সময় চেয়ে আবেদন করতে পারেন। যদি উপ কর কমিশনার তার আবেদনে সন্তুষ্ট হয়ে অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর করেন এবং সেই বর্ধিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন সেক্ষেত্রে করদাতার উপর জরিমানা আরোপিত হবে না। তবে তার উপর অতিরিক্ত সরল সুদ এবং বিলম্ব সুদ আরোপিত হবে।

তাই জরিমান বা সুদ থেকে বাচতে সময়ের মধ্যেই কাগজপত্র তৈরি করে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া ভালো।

আপডেটঃ ১০ অক্টোবর ২০১৮।

লেখাটি bdnews24.com-এ ১২ অক্টোবর ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে।

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply

Shares