Tax

আয়কর রেয়াত পেতে বিনিয়োগ করেছেন কি?

January 10, 2018
Tax Rebate Image

আপনি আয়কর রেয়াত সুবিধা ভোগ করার জন্য বিনিয়োগ করেছেন কি? আপনি জানেন কি এই বছরে আপনার আনুমানিক মোট কত টাকা আয় হবে? এবং হিসেব করেছেন কি এই বছরে আপনি সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকৃত টাকার উপর কর রেয়াত পাবেন?

মে মাস শুরু হয়েছে। জুন মাসেই শেষ হবে ২০১৬-১৭ অর্থ বছর। এই অর্থ বছরের জন্য আপনাকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে। এরপরেও দেওয়া যায় কিন্তু বিলম্বে বিবরণী জমা দিলে সুদ দিতে হয়।

উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনি আপনাকে ভাবতে হবে। কারন জুনের পর আপনি বিনিয়োগ করলেও সেটা আপনি বিনিয়োগ হিসেবে দেখাতে পারবেন না।

কোথায় বিনিয়োগ করবেন?
কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করা যাবে এবং সর্বোচ্চ কতো বিনিয়োগকৃত টাকার উপর কর রেয়াত পাওয়া যাবে তা আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত অধ্যাদেশের ষষ্ঠ সিডিউল (পার্ট- বি), ধারা ৪৪ (২) (বি) অনুযায়ী ব্যক্তি করদাতা নিন্মোক্ত খাতে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াতের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

  • পুজি বাজারে নিবন্ধিত কোন শেয়ার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড অথবা ডিভেঞ্চার
  • বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেজারি বন্ড
  • কোন সিডিউল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ বাৎসরিক ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিপিএস
  • জীবন বীমা প্রিমিয়াম (বাৎসরিক মোট বীমাকৃত অংকের সর্বোচ্চ ১০%)
  • রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সেভিংস সার্টিফিকেট
  • একটা কম্পিউটার (সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা) অথবা একটা ল্যাপটপ (সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা)
  • স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ডে কন্ট্রিবিউশন ইত্যাদি।

এর বাহিরে অনেকেই সমাজ সেবামূলক কাজ করতে আনন্দ পান। তারাও রাজস্ব বোর্ডের স্বীকৃত বা অনুমোদিত ফান্ডে বা প্রতিষ্ঠানে দান করে কর রেয়াত নিতে পারেন যার মধ্যে রয়েছে সরকারি যাকাত ফান্ড, চ্যারিট্যাবল হসপিটাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।

কতো টাকা বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন?
ধারা ৪৪ (২) (বি) এবং (সি) অনুযায়ী তিনটি অংকের কথা বলা হয়েছে এবং এই তিনটি অংকের মধ্যে যেটা সবচেয়ে কম হবে সেটাই কর রেয়াতের জন্য বিনিয়োগকৃত অংক হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ ১.৫ কোটি টাকা অথবা মোট করযোগ্য আয়ের ২৫% অথবা প্রকৃত বিনিয়োগকৃত টাকা এই তিনটি অংকের মধ্যে যেটি কম সেটিই হবে কর রেয়াতের জন্য বিনিয়োগযোগ্য টাকা।

ধরে নিলাম আপনি একজন চাকরীজীবী এবং এই বছরে আপনার আনুমানিক করযোগ্য আয় ৮,০০,০০০ টাকা যার উপর আপনাকে আয়কর দিতে হবে।

তাহলে এর উপর ২৫% হিসেবে আসে ২,০০,০০০ টাকা।

এখন আপনার প্রকৃত বিনিয়োগ যদি এর কম হয়, ধরে নিলাম ১,৮০,০০০ টাকা। তাহলে আপনি ১,৮০,০০০ টাকার উপরই কর রেয়াত পাবেন।

কিন্তু আপনার বিনিয়োগ যদি এর চেয়ে বেশি হয় সেক্ষেত্রে আপনি ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্তই বিনিয়োগ হিসেবে দেখাতে পারবেন। এবং তার উপরেই আপনি কর রেয়াত পাবেন।

অনেকেরই ছোট-বড় বিনিয়োগ থাকে। কিন্তু না জানার কারনে সেই বিনিয়োগকৃত টাকার উপর কর রেয়াতের সুবিধা নিতে পারেন না।

যেহেতু আপনি বিনিয়োগ করছেনই এবং আপনাকে প্রতি বছর আয়কর দিতেই হচ্ছে তাই বিনিয়োগ করার আগে ট্যাক্স প্ল্যানিং করে বিনিয়োগ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে করে বছর শেষে আপনার আয়করের পরিমান অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

কতো টাকা কর রেয়াত পাবেন?
সবাই আয়কর দিতে চান। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চান। দেশকে এগিয়ে নিতে চান।

কিন্তু বছর শেষে যখন আয়কর হিসেব করেন তখন করের অংকটা দেখে কেউ কেউ হয়তো ভয় পেয়ে যান। মনে মনে হয়তো বলেন, এতো টাকা আয়কর দিতে হবে?

কিন্তু একটু জেনে বুঝে টাকা বিনিয়োগ করলেই আয়করের পরিমান যে অনেক কমে আসে তা জানেন না। প্রতি বছরে ব্যক্তি করদাতা তার বিনিয়োগের উপর আয়কর অধ্যাদেশে নির্ধারণ করে দেয়া হারে কর রেয়াত পেয়ে থাকেন যেটা তার মোট কর দায় থেকে বাদ দেয়া হয়।

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪, ধারা ৪৪ অনুযায়ী বিনিয়োগজনিত আয়কর রেয়াত পাওয়া যাবে প্রথম ২,৫০,০০০ টাকার উপর ১৫% হারে। যেহেতু আপনার বিনিয়োগ ২,০০,০০০ টাকা তাই আপনি এর উপর ১৫% হারে ৩০,০০০ কর রেয়াত পাবেন।

আর কতো টাকা কর দিতে হবে?
আপনার আনুমানিক মোট করযোগ্য আয় ৮,০০,০০০ টাকার উপর বর্তমান কর হার অনুযায়ী মোট আয়কর আসে ৬২,৫০০ টাকা।

যেহেতু আপনি বিনিয়োগ করেছেন এবং তার উপর ৩০,০০০ টাকা কর রেয়াত পেয়েছেন তাই এটা বাদ দিয়ে এখন আপনার আয়কর দাড়াবে ৩২,৫০০ টাকা।

লক্ষ্য করুন, বিনিয়োগের কারনে আপনার আয়কর প্রায় অর্ধেকই কমে গেছে।

নিশ্চয় আপনি যে কোম্পানিতে চাকরী করেন সেখান থেকে প্রতিমাসে উৎসে কর কর্তন করে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন ট্রান্সফার করা হয়।

ধরে নিলাম প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে কেটে তারপর আপনার অ্যাকাউন্টে বেতন ট্রান্সফার করা হয়। তাহলে মোট ২৪,০০০ টাকা দেওয়া হবে আগামী জুন মাস পর্যন্ত।

তাহলে আপনাকে এখন ৩২,৫০০ টাকা থেকে ২৪,০০০ টাকা বাদ দিয়ে আর মাত্র ৮,৫০০ টাকা দিতে হবে রাজস্ব বোর্ডেকে। এই টাকা চালান/চেক/পে অর্ডার এর মাধ্যমে জমা দিয়ে আয়কর বিবরণী দাখিল করলেই আপনার আয়কর বিবরণী দাখিল হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।

আয়ের ১০% সঞ্চয় করার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন। এতে করে ভবিষ্যতে অনেক উপকারে আসে। জীবন বীমা করা থাকলে কখনো কোন দূর্ঘটনা হলে ভালো আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়।

আবার ছেলে-মেয়ে ছোট থাকতেই দীর্ঘ মেয়াদি শিক্ষা বীমা বা ডিপিএস করে রাখলে উচ্চ শিক্ষার্থে কাজে লাগে। এতে করে যেমন বর্তমানে আয়কর কম দেয়ার সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, আবার তেমনি ভবিষ্যতে ভালো একটি কাজে ব্যবহারও করা যাবে।

জেনে নিন আরো কিছু দরকারি তথ্য
আয়কর হার
প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত শূন্য
পরবর্তী ৪,০০,০০০টাকা পর্যন্ত ১০%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ১৫%
পরবর্তী ৬,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ২০%
পরবর্তী ৩০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ২৫%
অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর ৩০%

করমুক্ত সীমা (বিশেষ ক্ষেত্রে)
মহিলা করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতা ৩,০০,০০০ টাকা
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতা ৩,৭৫,০০০ টাকা
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা ৪,২৫,০০০ টাকা
প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবা ২,৭৫,০০০ টাকা
প্রতিবন্ধী সন্তানের মাতা ৩,২৫,০০০ টাকা

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply

Shares