Tax

একজন চিকিৎসক কিভাবে আয়কর গণনা করবেন?

June 1, 2019
Tax Calculation by Doctor

১৯ নভেম্বর আয়কর মেলা শেষ হয়ে গেলেও ৩০ নভেম্বর আপনার টিন –এ উল্লেখিত সার্কেলে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তাই যারা রিটার্ন জমা দিতে পারেননি তাদের এখনো হাতে প্রায় দশ দিন সময় আছে।

এর আগে একটি লেখায় আপনার একজন শিল্পীর আয় ও কর বের করার পন্থা জেনেছিলাম। আজ আমরা জানবো, একজন চিকিৎসক কিভাবে তার আয় ও কর গণনা করবেন।

একজন চিকিৎসক যদি চাকরি করেন তাহলে একজন চাকরিজীবী যেভাবে আয় গণনা করেন সেভাবেই তার করযোগ্য আয় বের করতে হবে। তবে একজন চিকিৎসক চাকরির পাশাপাশি বাইরে রোগী দেখে থাকেন। সেখান থেকে তার ভালো অংকের আয় হয়।

আপনি যদি একজন চিকিৎসক হয়ে থাকেন এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন তাহলে কিভাবে আয় গণনা করবেন?

Tax Return

প্রথমে আপনি বেতন হিসেবে যেটা পাচ্ছেন তা থেকে করযোগ্য আয় বের করবেন। বেতন খাতে আয় থেকে করযোগ্য আয় বের করার সময় আপনি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা ইত্যাদি খাতে যে ছাড় রয়েছে তা যথাযথভাবে বাদ দিয়ে আপনি বেতন খাতে করযোগ্য আয় বের করবেন।

তারপর আপনি আপনার প্রাইভেট প্র্যাকটিস থেকে যে আয় হয় তা থেকে করযোগ্য আয় বের করবেন।

আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন চিকিৎসককে তার আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করতে হয়। কিভাবে তিনি তার হিসেব রাখবেন তা ছক কেটে টেবিল উল্লেখ রয়েছে আয়কর আইনে।

আপনি প্রতিদিন যে রোগী দেখেন তার একটি রেজিস্টার রাখতে হয় যেটা কেইস রেজিস্টার নামে পরিচিত। সেখানে আপনি রোগীর নাম, কি ধরনের সেবা দিয়েছেন এবং সেজন্য আপনি আপনার রোগীর কাছ থেকে ফি কতো নিয়েছেন তা উল্লেখ করতে হয়।

এরপর, আরেকটি খাতা রাখতে হয় যেখানে আপনি খরচগুলো লিখবেন। এখানে আপনি যে খরচ করেছেন তার বিবরণ লিখে আপনি নগদে টাকা পরিশোধ করে থাকলে নগদের ঘরে অথবা চেকে পরিশোধ করলে চেক এর ঘরে লিখবেন।

এভাবে আপনার আয় ও ব্যয় দুইটা খাতায় লিপিবদ্ধ করে বছর শেষে মোট আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে আপনার প্রাইভেট প্র্যাকটিস থেকে করযোগ্য আয় বের করবেন।

তবে যারা উপরে উল্লেখিত নিয়মে হিসেব রাখেন না তারা কি করবেন?

আয়কর নির্দেশিকাতে একজন চিকিৎসক কিভাবে আয় এবং কর পরিগণনা করবেন তার একটি উদাহরণ দেয়া হয়েছে। সেখানে তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস থেকে যে আয় হয়েছে তার এক-তৃতীয়াংশ আনুমানিক খরচ বিবেচনা করে করযোগ্য আয় বের করেছে।

অতএব, আপনার কাছে যদি খরচের হিসেব রাখা ঝামেলার মনে হয় বা কোন কারনে রাখা সম্ভব না হয় তাহলে মোট আয় থেকে এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় বের করতে পারেন।

এবার আপনি চাকরি এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিস, এই দুইটি খাত থেকেই করযোগ্য আয় যোগ করে মোট করযোগ্য আয় বের করুন। তা থেকে কর রেয়াত এবং যদি কোথাও উৎসে কর দিয়ে থাকেন তাহলে সেগুলো বাদ দিয়ে নীট কর দায় বের করবেন। এই নীট কর দায় আপনি যখন রিটার্ন দাখিল করবেন তখন দরকারি কাগজপত্রের সাথে পে অর্ডার/চালান/চেক দিয়ে জমা দিলেই আপনার আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়ে যাবে।

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply

Shares