Money

ইউএস-চায়না বাণিজ্য যুদ্ধঃ ক্ষতিটা সবার

July 21, 2018
US-China Trade War Image

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনের আগে কথা দিয়েছিলেন আমেরিকার ব্যবসা ভালো করার জন্য তিনি কাজ করবেন। মূলত চায়নার সাথে আমেরিকার বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এবং তিনি বলছেন চায়না অন্যায়ভাবে এটা করছে। তখনই তিনি বলেছিলেন আমেরিকার উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে তিনি কাজ করবেন। এবং নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি সেই পথেই হাটছেন।

ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে টুইটারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতির কথা বলে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন ট্যারিফই হতে পারে এ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়।

ট্যারিফ আরোপের দিক দিয়ে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ইউএস এর হার তুলনামূলক কম। তাই ট্রাম্প পূর্ববর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন এর কারনেই অন্যান্য দেশের সাথে ইউএস এর বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প যে তথ্য দিয়েছেন তা থেকে জানা যায়, আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় আধা ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার।

তাই তিনি গত কয়েক দশক ধরে চলে আসা মুক্ত বাজার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে রক্ষণশীল নীতির দিকে ঝুকছেন।

তিনি ট্যারিফ আরোপ করে আমদানি ঠেকিয়ে দেশীয় পণ্য প্রমোট করতে চাইছেন। এখন পর্যন্ত যে সব দেশের পণ্যের উপর ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে সেই তালিকায় রয়েছে চায়না, মেক্সিকো, কানাডা এবং ইইউ।

কিন্তু চায়নার সাথে ট্যারিফ আরোপ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। চায়না এবং ইউএস এর পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ আরোপের ফলে এটা এখন ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ।

প্রথমে এই যুদ্ধ শুরু হয় গত জানুয়ারি মাসে। তখন ওয়াশিং মেশিন এবং সোলার প্যানেল এর উপর ট্যারিফ বসানো হয়। এখন পর্যন্ত মিডিয়ার খবর অনুযায়ী চায়নার ৫০ বিলিয়ন ইউএস ডলার পণ্যের উপর এই ট্যারিফ বসানোর কথা ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে। এই ট্যারিফ গত ৬ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে যখন ট্রাম্প ট্যারিফ আরোপ করেছেন তখন চায়না থেকে ১১ হাজার মেট্রিক টন স্টীল ইউএস এর উদ্দেশ্যে শিপমেন্ট করা হয়েছে। ২৫% ট্যারিফ দিয়ে ইউএস এর পোর্ট থেকে এই স্টীল খালাস করতে হবে।

শুধুই কি বাণিজ্য ঘাটতি?

বাণিজ্য ঘাটতির আড়ালে ট্রাম্পের আরেকটি উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। তিনি চাচ্ছেন, বিরোধী দল ডেমক্রেটিকদের স্যুইং স্ট্যাট ওহাইও-তে চাকরির সংখ্যা বাড়াতে। এতে করে সেখানে তার দল রিপাবলিকান এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে।

কিন্তু প্রযুক্তিগত বিকাশের কারনে অ্যাল্যুমিনিয়াম এবং স্টীল উৎপাদন আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে। মূল কারখানাতে আগের থেকে এখন অনেক কম শ্রমিক দরকার হয়।

আরেকটা বিষয় উল্লেখযোগ্য, উন্নত দেশগুলোতের শ্রমের মজুরী বেশি হওয়াতে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে। তাই উন্নত দেশগুলো তাদের কারখানা যেখানে কম মজুরীতে শ্রমিক পাওয়া যায় সেখানে শিফট করছে।

আবার অনেকে উৎপাদনের সাথে সরাসরি জড়িত না থেকে আউটসোর্সিং করছে।

চায়নাতে এক সময় মজুরী কম হওয়াতে অনেক কারখানাই সেখানে শিফট হয়েছিলো। এখন সেখানে আবার মজুরী বৃদ্ধির ফলে অন্য দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে যেমন গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি। কম মজুরী হওয়াতে এখানে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো থেকে ক্রেতারা আসছেন।

যাই হোক, তাই তার এই সিদ্ধান্ত তেমন কাজে আসবে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা।

মূলত ১৯৮৯ সালের পর থেকেই আমেরিকাতে চাকরির পরিমান কমতে থাকে। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫.৫ মিলিয়ন উৎপাদন খাতে চাকরি কমেছে।

ট্রাম্প চায়নাকে আইডিয়া চুরির পাশাপাশি আরেকটা অভিযোগ করেছেন সেটা হলো কারেন্সি ম্যানিপুলেটর। গত কয়েক বছর ধরেই চায়না তাদের কারেন্সি অবমূল্যায়ন করে রেখেছে। এর ফলেও তাদের পণ্য আমদানি করতে খরচ কম পড়ছে।

এবং এর মধ্যেই তারা ঘোষণা দিয়েছে, ইউএস ডলারের বিপরীতে তাদের কারেন্সি ইউয়ান অবমুল্যায়ন করবে।

কেন বাণিজ্য ঘাটতি হচ্ছে?

সাম্প্রতিক কয়েক দশক ধরে ধনী দেশগুলো উৎপাদনমূখী অর্থনীতি থেকে সেবামূখী অর্থনীতির দিকে ঝুকছে। আমেরিকার গত বছরের আমদানি-রপ্তানি থেকে এর প্রমান পাওয়া যায়।

২০১৭ সালে ইউএস ৮১০ বিলিয়ন ডলার আমদানি করেছে। বিপরীতে রপ্তানি করেছে প্রায় ২৪৩ বিলিয়ন ডালার। এই রপ্তানির ৯০% হলো সেবা খাত যেমন ব্যাংকিং, ট্রাবেল এবং ট্যুরিসম থেকে। বিপরীতে, চায়নার সেবা খাতের তুলনায় উৎপাদনখাতে রপ্তানি আয় বেশি হয়।

২০১৭ সালে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি দাড়ায় প্রায় ৫৬৬ বিলিয়ন ডলার।

এক তথ্য মতে চায়না পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক স্টীল উৎপাদন করে। কিন্তু আমেরিকা স্টীল আমদানির বেশির ভাগই করে থাকে কানাডা, ব্রাজিল, সাউথ কোরিয়া এবং ম্যাক্সিকো থেকে।

২০১৭ সালে আমেরিকা ৩৪ মিলিয়ন টন স্টীল আমদানি করে। এর মাত্র ২% আমদানি করেছে চায়না থেকে যা আমেরিকার মোট মূল্যের ৩%।

তাই ট্রাম্প যেভাবে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চাচ্ছেন তা সব জায়গায় গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না।

বাণিজ্য ঘাটতিতে চায়নার প্রভাব কতোটা?

আমেরিকা চায়নাতে যে পরিমান রপ্তানি করে তার চেয়ে চারগুণ বেশি আমদানি করে চায়না থেকে।

২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর আমেরিকার বাজার চায়নার পণ্যে ভরে যায়। লাফ দিয়ে বেড়ে যায় চায়না থেকে আমদানি। তখন অর্থনীতিবিদরা এর নাম দিয়েছিলেন ‘চায়না শক’।

২০০০ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে উৎপাদন খাতে চাকরির সংখ্যা ১৬.৯ মিলিয়ন থেকে ১৩.৬ মিলিয়নে নেমে আসে। এর পরের বছরই ২০০৮ সালে যেটা মন্দার বছর হিসেবে পরিচিত সেই বছর এটা ১১.২ মিলিয়নে এসে ঠেকে।

এরপর থেকে মোটামোটি স্থিতিশীল অবস্থায়ই আছে।

তখন চায়নার কারনে ঠিক কতো চাকরি কমেছিলো তার সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও এটা ধারনা করা হয় ৪০% চায়নার কারনে হয়েছিলো।

পোশাক এবং ইলেক্ট্রনিক পণ্যের কারনে বেশি মাত্রায় প্রভাব পড়েছিলো।

ট্রাম্পের ট্যারিফ কি কাজে দিবে?

ট্যারিফ বসানোর ফলে চায়নার পণ্যের দাম এখন বেড়ে যাবে এবং বিপরীত দিকে আমেরিকার পণ্যের দাম কমবে। এর ফলে আমেরিকান মানুষ তাদের নিজেদের দেশের পণ্য কিনবে যার ফলে তাদের স্থানীয় কোম্পানির ব্যবসা ভালো হবে।

এই চিন্তা করেই ট্রাম্প প্রশাসন চায়নার কিছু পণ্যের উপর ট্যারিফ আরোপ করে।

চায়নাও বসে নেই। এর পাল্টা জবাব হিসেবে চায়নাও আমেরিকার ৩৫ বিলিয়ন পণ্যের উপর ২৫% ট্যারিফ আরোপ করে। আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত কৃষি পণ্য, গাড়ি এবং মেরিন পণ্যের উপর এই ট্যারিফ বসবে।

চায়নার এই পাল্টা সিদ্ধান্তের পর খেপে যান ট্রাম্প। ট্রাম্পের আচরন এমন যে, খেলার মাঠে শুধু তিনি একাই আক্রমণ করবেন। ট্রাম্প এবার আরো খেপে গিয়ে বলেন, চায়না যদি তাদের এই সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে না আসে তাহলে আরো ২০০ বিলিয়ন পণ্যের উপর ট্যারিফ আরোপ করবেন। তবে এবার ট্রাম্প ট্যারিফের হার কমিয়ে ১০%-এ নিয়ে আসার কথা বলেছেন।

ট্রাম্প যদি এই সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যায় তাহলে চায়নাও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থার কারনে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে যা অনেকেই মনে করছেন ক্ষতিকর।

অন্য দিকে ইইউ, মেক্সিকো এবং কানাডার পণ্যের উপরও ট্যারিফ আরোপ করেছে ট্রাম্প। এর পাল্টা হিসেবে তারাও আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ট্যারিফ আরোপের কথা বলছে। আমেরিকা যেই হারে ট্যারিফ আরোপ করেছে ঠিক একই হারে তারাও ট্যারিফ আরোপের কথা চিন্তা করছে।

ট্যারিফের ফলে ক্ষতি হচ্ছে কার?

ইউএস এর গাড়ি এবং প্লেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাচামাল হিসেবে ব্যবহৃত স্টীল এবং অ্যালুমিনিয়াম এর দাম বৃদ্ধির ফলে গাড়ি এবং প্লেনের দাম বৃদ্ধি পাবে। ক্যানের দাম বৃদ্ধির ফলে বেড়ে যাবে পানীয়র দাম। বেড়ে যাবে গাড়ি ভাড়া বা প্লেনের ভাড়া। সুতরাং একটা আরেকটার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এই দাম বৃদ্ধি শুধু চায়না এবং ইউএস এর জনগণের উপরেই প্রভাব ফেলবে না। এর প্রভাব পড়বে সারা পৃথিবীর মানুষের উপর।

ইতোমধ্যেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

অ্যাল্যুমিনিয়াম এবং স্টীলের উপর ট্যারিফ আরোপ হওয়াতে ইউএস এ কিছু কিছু জায়গায় ভোক্তাদের কাছে আগের থেকে ৪০% বেশিও দাম চাওয়া হচ্ছে।

এদিকে ইউএস এর কোম্পানিগুলোর বিক্রি আগের থেকে বেড়ে যাবে তাই তারাও তাদের উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলেছে। এবং হাজার হাজার শ্রমিক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

কৃষি পণ্য উৎপাদনকারী এবং পক্রিয়াজাতকারিরা পড়বেন বিপদে। কারন চায়না যে ট্যারিফ আরোপ করেছে তা ইউএস থেকে রপ্তানি হবে চায়নাতে। এতে করে কৃষি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। চায়নার ক্রেতারা বিকল্প বাজারে চলে যেতে পারে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন ইউএস বিক্রেতারা।

আবার ইউএস এ যারা কৃষি পণ্য পক্রিয়াজাত করে তারা অ্যাল্যুমিনিয়াম এবং স্টীলের উপর থেকে ছাড় চাচ্ছেন যাতে করে তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেন। তারা এখন চায়নার বিশাল বাজার হারানোর ভয়ে আছেন।

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে তাদের এ বছরের বিক্রির পরিমান গত বছরের তুলনায় কম হবে। কারন, এর ফলে চায়নায় তাদের গাড়ির দাম বেড়ে যাবে।

আর জাপানের এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলেছে, ট্রাম্পের ২৫% ট্যারিফের প্রভাব হবে সীমিত। কিন্তু এই পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা দুই দেশেরই ঝুকি অনেক বাড়িয়ে দিবে।

চায়না আমেরিকাতে যে পণ্য বিক্রি করে তার প্রায় ৩০%-ই আসে অন্যান্য দেশ থেকে। এর মধ্যে বেশিরভাগ দেশই ছোট।

আবার এই তালিকায় জাপানও রয়েছে।

অর্থাৎ, ছোট থেকে বড় সবাই এই ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

তবে ট্রাম্প নিরুত্তাপ।

তিনি বলছেন, আমরা যা শুরু করেছি এটা যদি শেষ করতে পারি তাহলে খুবই ভালো কাজ হবে এবং তিনি সহজেই এতে জয়ী হবেন। তাই তিনি ট্যারিফ আরোপ করে মোটেই ভীত নন।

বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদ এবং ট্রেড এক্সপার্টরা ট্রাম্পের এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন এর কারনে প্রায় সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইউএস।

ট্রাম্প আশাবাদী থাকলেও অনেকেই মনে করছেন কয়েকটি কারনে তিনি এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারবেন না।

কি সেই কারনগুলো?

এখন ট্রাম্প যেভাবে চায়নার সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চাচ্ছেন তা সম্ভব হবে না কারন, চায়নাতে আমদানির ক্ষেত্রে অনেক বাধা রয়েছে।

গড়ি আমদানির ক্ষেত্রে ২৫% ট্যারিফ দিতে হয়। ফাইন্যান্স, সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিকমিউনিকেশনস, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ইত্যাদি খাতে চায়নাতে আমদানির ক্ষেত্রে অনেক বাধা রয়েছে। এসব খাতে চায়না উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের জন্য বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সহজ হবে না।

বিশ্লেষকরা নিচের কয়েকটি কারনে ট্রাম্পের ট্যারিফ সফল হবে না বলে মনে করছেন।

  • ট্রাম্প কানাডা, ইইউ এবং চায়না থেকে আমদানিকৃত অ্যাল্যুমিনিয়াম এবং স্টীলের উপর ট্যারিফ আরোপ করেছেন। কিন্তু প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে কারখানাগুলোতে এখন আগের তুলনায় অনেক কম শ্রমিক লাগে। তাই চাকরির সংখ্যা বাড়বে না।
  • অ্যাল্যুমিনিয়াম এবং স্টীল খাতে মাত্র ১৪০,০০০ লোক জড়িত। গুটি কয়েক লোকের জন্য এই ট্যারিফ মোটেই ভালো ফল নিয়ে আসবে না। তাই অনেকেই এর সমালোচনা করে বলছেন, এই ট্যারিফের ফলে আমেরিকান মানুষের উপর ট্যাক্স আরোপ করা হলো।
  • এটা মুক্ত বাজার অর্থনীতির উপর হস্তক্ষেপ। তাই অন্য দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে যেতে পারে যদিও তা দীর্ঘমেয়াদি।
  • চায়না অন্যভাবে ইউএস বাজারে ঢুকতে পারে। কারন, চায়নার পণ্যের দাম খুবই কম। তাই আমেরিকার বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অন্য কোন দেশ হয়ে আমেরিকাতে পণ্য বিক্রি হতে পারে। অন্যদিকে আমেরিকার কিছু ব্যবসায়ীরা কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও চায়নার সাথে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী।
  • আমেরিকাই মুক্ত বাজার অর্থনীতির প্রবক্তা। এখন তারাই এর বিরুদ্ধে চলে গেছে। তাই তাদের নিজেদের ঘরেই সমালোচনা উঠছে। বিরোধী দল ডেমক্রেটিক এমনকি নিজ দল রিপাবলিকানরাই ট্রাম্পের এই নীতির সমালোচনা করছেন।

মুক্ত বাজার অর্থনীতিই কি ভালো?

এর উত্তর হলো এই প্রশ্নটা আপনাকে কে করেছে।

মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে ট্যারিফ থাকলেও খুবই সামান্য থাকে। এর ফলে বিশ্বের যে কোন দেশের পণ্য অবাধে ভোক্তারা কেনার স্বাধীনতা পান। ফলে স্বস্তায় তারা কিনতে পারেন।

এতে করে বিদেশি পণ্য স্বস্তা হলে দেশীয় পণ্যের বদলে বিদেশি পণ্য কিনবে।

এর ফলে উন্নত দেশগুলোর কাছে অন্য দেশগুলো মার খাচ্ছে এবং অসম প্রতিযোগিতার কারনে মুষ্টিমেয় কয়েকজন আরো ধনী হচ্ছে।

এর শেষ কোথায়?

এর উত্তর কারো কাছে নেই।

ট্রাম্পের নিজ দলের সদস্যরাই তার বিরোধিতা করছেন। তারা মুক্ত বাজার অর্থনীতির পক্ষে।

কিন্তু ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন ইউএস এবং চায়নার মানুষ। এবং তার সাথে অবশ্যই সারা পৃথিবীর মানুষ।

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply

shares