Money

বিজনেস রিভিউ ২০১৭

January 10, 2018
Business Review 2017 Image

২০১৭ সালকে ব্যাংক কেলেঙ্কারি, লুটপাটের বছর বলা হচ্ছে। একের পর এক কেলেঙ্কারি, ঋণ খেলাপি, ব্যাংকের নাজুক অবস্থা, আমানতকারীদের গচ্ছিত টাকা ফিরে না পাওয়া এসবই ছিলো বছরজুড়ে আলোচনার বিষয়।

তবে অর্থনীতির সূচকগুলোতে ভালো করেছে বলে খবর বেরিয়েছি। শুধু চালের দাম যদি লাগামহীনভাবে না বাড়তো তাহলে এ বছর দেশের অর্থনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বছর হয়ে থাকতো বলে মনে করা হয়েছে। দুইবার কৃষকের ফসলহানির কারনে বেড়ে যায় চালের দাম এবং এর ধাক্কা লাগে মূল্যস্ফীতিতে।

স্পোর্টস দুনিয়ায় মেসি, রোনালদো এবং নেইমার ঘুরে ফিরে এসেছেন। কার চেয়ে কার দাম বেশি, কে কার থেকে বেশি টাকায় চুক্তি করেছেন এগুলোই ছিলো নিয়মিত খবর।

বাংলাদেশে বেশ কিছু মুভি রিলিজ পেয়েছে যদিও বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার খবর তেমন পাওয়া যায়নি। ভুবন মাঝি, ডুব, গহীন বালুচর, হালদার মতো কিছু মুভি রিলিজ পেয়েছে যা মিডিয়ায় ভালো কাভারেজ পেয়েছে। কিন্তু তারা তাদের বিনিয়োগকৃত টাকা ফিরে পেয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি।

আর মিউজিক শিল্পের অবস্থা কয়েক বছর ধরেই নাজুক। ইউটিউবের কারনে শিল্পীদের আয় বলতে গেলে নাই। শুধু ইউটিউবে কতোবার দেখা হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে এ জগতের মানুষদেরকে।

ইকোবিজ

২০১৬ সালের শুরুতে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়। ব্যাংকের লকার ভেঙ্গে নয় বা সুড়ঙ্গ খুড়ে নয়, তথ্য প্রযুক্তির যুগে ব্যাংক থেকে হ্যাকিং করে অর্থ চুরি করার এ এক নতুন পদ্ধতি। যদিও এরই মধ্যে ফিলিপিন্সের তত্পরতায় ১.৫ কোটি ডলার উদ্ধার কারা গেছে কিন্তু বাকি টাকা ২০১৭ সালেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে বছর জুড়েই মিডিয়াতে নিয়মিতভাবে খবর বেরিয়েছে।

২০১৭ জুড়েই ব্যাংক খাতে একের পর এক কেলেংকারির খবর প্রকাশিত হয়েছে। এজন্য ব্যাংক খাতে বিশেষজ্ঞ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক অনুমোদন দেয়ায় এমনটা হয়েছে। নয়টি নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার আগে থেকেই যে ব্যাংকগুলো ছিলো তাদের অবস্থাই ভালো ছিলোনা। তার উপর নতুন করে আরো ব্যাংক অনুমোদন দেয়ায় এই বিপদ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এ খাতে বিশেষজ্ঞরা।

নতুন ব্যাংক এর মধ্যে ফার্মার্স ব্যাংক লিমিটেড এবং এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড এর অবস্থা খুবই নাজুক। ফার্মার্স ব্যাংকে গ্রাহকরা তাদের জমানো টাকা তুলতে গিয়ে ফেরত আসছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে জানিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। অনেকেই এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ঠিক সময়ে নজরদারি না করাকে দায়ী করেছেন।

ফার্মার্স ব্যাংকের এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ নভেম্বর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এবং পরিচালক পদ থেকে সরে দাড়াতে হয়েছে সাবেক স্বরাস্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে।

তবে গ্রাহকের টাকা ফেরত না পাওয়ার ঘঠনা এটাই প্রথম না। এর আগে ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের কাছ থেকেও গ্রাহকরা তাদের গচ্ছিত টাকা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ব্যাংক যে একটা আস্থার জায়গা তাতে কিছুটা চিড় ধরেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

জানা যায়, ব্যাংকটির শেয়ার হস্তান্তর করে মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনটা এর আগে ১৯৯২ সালে বিসিসিআই বিলুপ্ত করে ইস্টার্ন ব্যাংক করা হয়েছিলো।

আরেক নতুন ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়াল-এ ৭০১ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের ঘঠনা খুজে পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলধন সংগ্রহেও অনিয়ম হয়েছে বলে জানা গেছে। এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ফরাছত আলী তার দায়িত্ব থেকে সরে যান।

তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিলো রাতারাতি ব্যাংকের মালিকানায় পরিবর্তনের খবর। চট্টগ্রামভিত্তিক একটি শিল্প গোষ্টি বছরের একদম শুরুর দিকে ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে। সরে পড়েন আগের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এর পরে ব্যাংকের মালিকানা থেকে সরে পড়েন বিদেশি উদ্যোক্তারাও।

আবার শেষ দিকে এসেও ৩০ অক্টোবর সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকও একই শিল্প গোষ্টির হাতে চলে যায়। এতে করে মিডিয়ায় আসে অনেক ব্যাংকই মালিকানা পরিবর্তন আতংকে ভোগছেন।

২০১৪ সালে বেসিক ব্যাংকে ব্যাপক লুটপাটের পর ব্যাংকের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়ে। তখন দায়িত্বে থাকা ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা অনিয়ম করার এবং সেই অভিযোগে তাকে তার পদ থেকে সরে দাড়াতে হয়েছিলো। সেই জের ধরে তাকে এ বছরের ডিসেম্বরে দুদকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

খেলাপি হয়েও ঋণ পাচ্ছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কমপক্ষে তিনজন আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে ব্যাংকের পরিচালক পদে বহালও আছেন এমন খবর এসেছে মিডিয়াতে।

বিএনএস গ্রুপের মালিক এম এন এইচ বুলু তার সাতটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক-র কাছে বকেয়া রয়েছে ৩৯৫ কোটি টাকা যা বর্তমানে খেলাপি। এমন অবস্থায় নতুন করে তার প্রতিষ্টানগুলোকে আরো ১৩০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তিনি ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক পদে বহাল আছেন।

এক চিঠিতে তিনি বলেছিলেন সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করে দিবেন। পরে সুদ মওকুফ করার আবেদনও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ঋণ অস্বীকার করে উল্টা ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন। পরে জানা যায়, ঋণের মঞ্জুরীপত্রে তার স্বক্ষর রয়েছে।

দেশের নয়টি ব্যাংক থেকে সিলভিয়া গ্রুপ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশ পালিয়া গেছেন গ্রুপটির শীর্ষ ব্যক্তিরা। সেই গ্রুপের পরিচালক পদে রয়েছেন কামরুন নাহার সাখী। এদিকে তিনি আবার নতুন ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক। বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে সরিয়ে দিলেও আদালতের আদেশ নিয়ে তিনিও তার পদে বহাল আছেন।

তিন জনের মধ্যে বাকি আরেকজন হলেন আবদুল আওয়াল পাটোয়ারি। তার প্রতিষ্ঠান পাটোয়ারি পটেটো ফ্ল্যাশের কাছে বিভিন্ন ব্যাংক ১০০ কোটির উপরে বকেয়া ঋণের টাকা পাবে। আদালতের আদেশে তিনি নিজেকে খেলাপি দেখানো থেকে বিরত রাখার সু্যোগ নিয়ে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন।

বর্তমানের খেলাপি ঋণের পরিমান ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। আর ঋণের পরিমান ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। সে হিসেবে ১০.৬৭% খেলাপি ঋণ রয়েছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণের অর্থ পরিশোধ না করার কৌশল জেনে গেছেন। ফলে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য চলছে। ব্যাংকার, ব্যাংক মালিক বা রাজনৈতিক সংযোগ থাকলেই ঋণ পাওয়ায় বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে যখন ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরত না দেয়ার খবর মিডিয়াতে বের হয়েছে নিয়মিত তখন বাইরের দেশগুলোতে ভার্চুয়াল কারেন্সি বা ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে খবর বের হয়েছে সারা বছর ধরে।

অতি প্রাচীন কালে মানুষ পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে লেনদেন করতেন। তারপর আসে মূদ্রার প্রচলন। কিন্তু সেই সময়ের পরিবর্তন হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি যতো এগিয়ে যাচ্ছে তার সাথে সাথে।

ভার্চুয়াল কারেন্সি বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে বিটকয়েন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই খবর প্রায় বছর জুড়েই মিডিয়াতে এসেছে। এই মূদ্রা কোন সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করেনা। অনলাইনে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে তা দিয়ে লেনদেন করা যায়।

কিছুদিন আগে ইনডিয়ার মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন বিটকয়েন নিয়ে বিপাকে আছেন খবর বেরিয়েছিলো। খুবই অস্থির সময় যাচ্ছিলো বিটকয়েনের দর নিয়ে। সারা বছর ধরেই দাম উঠানামা করেছে। সেই জন্য যখন দাম অনেক কমে যায় তখন অমিতাভ বচ্চনের বিনিয়োগ ধাম করে অনেক নিচে পড়ে যায়।

বাংলাদেশে বিটকয়েন ব্যবহারকারী আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। যেহেতু এই মূদ্রা কোন সরকার বা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করেনা তাই এটা লেনদেনে ঝুকি থেকে যায়। সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এই ধরনের মূদ্রা ব্যবহার থেকে সতর্ক থাকার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই ধরনের মূদ্রা ব্যবহারে আইনগত ঝামেলাও হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

ব্যাংক খাত নিয়ে সারা বছর ধরে নানা অনিয়ম, মালিকানা পরিবর্তন, কেলেঙ্কারির খবর একদিকে যেমন সরকারকে স্বস্তি দেয়নি তেমনি বছরের মাঝামাঝি এসে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর নিয়ে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যেও পড়তে হয়েছে।

এ বছরের জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন চালু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে পরে তা দুই বছর পিছিয়ে ২০১৯ সাল থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

ভ্যাটের বিভিন্ন হার বাদ দিয়ে এক হার ১৫% করার কথা ছিলো আইনটিতে। এই নিয়ে বিপত্তি বেধেছে ব্যবসায়ীদের সাথে অর্থমন্ত্রীর। এই বছর যে বিশাল অংকের বাজেট দেয়া হয়েছিলো তা নতুন ভ্যাট আইনের উপর ভরশা করেই করা হয়েছিলো। কিন্তু যখন শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবায়ন হয়নি তখন বাজেট বস্তবায়ন নিয়ে সংশ্বয় দেখা দিয়েছে।

ব্যাংক খাতে কেলেংকারি, টাকা নিয়ে ফেরত না দেয়া, বিদেশে চলে যাওয়া এবং ভ্যাট বাস্তবায়ন করে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করাকে কেন্দ্র করে ‘দেশ বাসিতো’ নামে একটি পেরোডি গান ইউটিউবে আপলোড করে দেওয়া হয়। রাতারাতি সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে তা ছড়িয়ে পরে। কিন্তু কিছুদিন পরেই তা ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেয়া হয় গানটি। কিন্তু কে বা কারা এই মিউজিকটি করেছিলেন তা জানা যায়নি।

মনে করা হয়েছিলো নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে এনবিআর এর রাজস্ব আদায় বাড়বে। কিন্তু তা আর শেষ পর্যন্ত না হলেও এবার এনবিআর সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩ কোটি টাকা বেশি আদায় করতে পেরেছে। এ নিয়ে টানা তিন বার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে এনবিআর। এবার এনবিআর-কে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

৩০ নভেম্বর ব্যক্তি করদাতাদের কর দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আগে কয়েকবার এই কর দেওয়ার শেষ সীমা বাড়ালেও কয়েক বছর ধরে তা আর বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। আর এদিকে ব্যক্তি পর্যায়ে কর মেলায় ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে কর দিতে দেখা যায় করদাতাদেরকে।

এই বছর থেকেই প্রথমবারের মতো ‘কর বাহাদুর পরিবার’ স্বীকৃতি দিয়েছে এনবিআর। সারা দেশের ৮৪টি পরিবার পেয়েছেন এই স্বীকৃতি। শীর্ষ কর বাহাদুর পরিবার হয়েছেন ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল এর মালিক খাজা তাজমহল-এর পরিবার। দ্বিতীয় হয়েছেন পুরানা পল্টন লাইনের ব্যবসায়ী এ বি এম শফিউল আলম-এর পরিবার। আর তৃতীয় হয়েছেন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান এর পরিবার।

ব্যবসা করে যেমন একজন দেশের সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করতে পারেন আবার তেমনি দুর্নামও বয়ে আনতে পারেন। আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদের বিরুদ্ধে বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠার পর বিপাকে পরে যান জুয়েলার্সের মালিক। ছেলের কুকির্তির জন্য গড়ে তুলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানো হুমকির মুখে পরে যায়। তার ছেলের বিরুদ্ধে যে মামলা হয় তা চাপা দিতে বিপুল অর্থ খরচের চেষ্টার অভিযোগ উঠে। পরে এই অর্থের উৎস খূজতে শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দারা।

বড় বড় ব্যবসা দেশের অর্থনীতিতে বিশালভাবে প্রভাব রাখে কিন্তু এককভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসাও একসাথে একটি গ্রামকে বদলে দিতে পারে। এবং দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান চোখে পড়ার মতো।

ফুলের কদর সব সময়ই ছিলো। কিন্তু আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যবহার বাড়ছে দিন দিন। ভালোবাসা দিবস-এ এর ব্যবহার বেড়ে যায় সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের উৎসব সারা বছর ধরে লেগেই থাকে। এই সব উৎসব ফুল ছাড়া যেন পূর্ণই হয়না।

এক সময় যে জমিতে কৃষি ফসল যেমন ধান, গম, পাট বা শাক-সবজি হতো সেখানে এখন বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে। এমনকি পুরু গ্রামের প্রায় ৯৮% মানুষ এই ফুল বিপণনের সাথে জড়িত। তাদের আয়ের প্রধান উৎস ফুল বিক্রি থেকে বা ফুলের সাথে জড়িত কাজ থেকে আসে।

এমনি একটি গ্রাম সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর। এখানে সাদা গোলাপ, গ্লাডিওলাস, জারবেরা চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি চাষ হয় মিরান্ডা প্রজাতির লাল গোলাপ।

গোলাপের মৌসুমে বিঘা প্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয় বলে চাষীরা জানান।

ব্যবসা ছোট হোক বা বড় হোক ঠিকমত ব্যবসা করার জন্য দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ একটি। শিল্প-কারখনায় উৎপাদন চালিয়ে নেয়ার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দরকার। আমাদের এখনো বিদ্যুতের ঘটতি রয়েছে।

পায়রায় দেশের বিদ্যুৎ হাব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। প্রায় বারো হাজার ২৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন হবে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে। আর ৬৬০ মেগাওয়াটের আরেকটি ইউনিট উদ্বোধন হবে একই বছরের অক্টোবরে। এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম ঠিক করা হয়েছে ৬.৬৫ টাকা।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন আগামী পাচ বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে নয়টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করা হবে যা থেকে মোট নয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

কয়লার পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজি দিয়ে ৩,৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করার বিষয়ে জার্মানির সিমেন্স এজি-র সংগে সমঝোতা হয়েছে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেনশন কোম্পানির।

সবকিছু ঠিকঠাকমত চললেও প্রাকৃতিক দূর্যোগ যে কোন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ করে দিতে পারে। বোরো মৌসুমে অনাকাঙ্ক্ষিত ঢলে হাওরের ধান নষ্ট হয়ে যায়। এবং পরে আবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় জমির ধান। এর ফলে কৃষকরা ঠিকমত ঘরে ধান তুলতে পারেন নি। দুইবারের ধাক্কায় চালের দাম যায় বেড়ে। ৩৫ টাকা কেজির চাল হয়ে যায় ৫০ টাকা। আর সরু চালের দাম উঠে কেজি প্রতি ৬৫ টাকা।

বর্ষার মৌসুমে সবজির কেজি প্রতি দাম ছিলো ৬০ টাকার কাছাকাছি। তাই অনেকেরই এবার ভরসা ছিলো আলু। দেশে আলুর চাহিদা ৮০ লাখ টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ টন। এতো উৎপাদনের ফলে আলু গরুকে খাওয়ানোর খবরও এসেছে।

এক গবেষণায় সম্প্রতি উঠে এসেছে, চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। তবে এর সাথে একমত নন অর্থমন্ত্রী। তিনি এজন্য আরো এক বছর সময় নিতে চান। কারন আসল চিত্র এক বছর পরেই বুঝা যাবে। তবে তিনি এ কথা স্বীকার করেন চালের দামের কারনে অনেক অসুবিধা হয়েছে।

চালের দাম বৃদ্ধির ধাক্কা এসে লাগে মূল্যস্ফীতিতে। কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও তা চালের দামের কারনে অনেক বেড়ে যায়। আর অন্যদিকে পেয়াজ কেজি প্রতি ১৪০ টাকায় উঠে যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। অক্টোবরে মাসোয়ারি ভিত্তিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিলো ৭.৬২ শতাংশ।

২০১৭-১৮ বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৫% এর মধ্যে রাখার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। মুল্যস্ফীতি এর মধ্যেই ছিলো কিন্তু শেষ দিকে এসে তা ৬% এর উপরে চলে যায় যদিও গত ১২ মাসে তা ৫.৫৯%-এ রয়েছে। ভবিষ্যতে যদি চালের দাম এমন থাকে তাহলে ৫.৫% এর মধ্যে ধরে রাখা কঠিন হবে।

গত কয়েক বছর ধরে জ্বালানী তেল এবং খাদ্যপণ্যের দাম নিন্ম পর্যায়ে থাকলেও দুই বন্যায় ফসলহানি হওয়াতে সরকার এবার সেই সু্যোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ধান উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারনে সরকারের চালের মজুদে টান পরে এবং সরকারকে চাল আমদানি অনেক বাড়িয়ে দিতে হয়। এছাড়াও বেড়েছে মূলধনী যন্ত্রপাতি ক্রয়। এসব মিলিয়ে গত বছরে আমদানির পরিমান বেড়ে গিয়ে দাড়ায় ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

আমদানির বিপরীতে রপ্তানি বছরের শুরুর দিকে কম থাকলেও শেষের দিকে এসে তা বেড়েছে। ব্রেক্সিট এবং ট্রাম্পের কারনে বিশ্ব রপ্তানি বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনা করা হচ্ছে।

রপ্তানির পাশাপাশি আরেকটি বড় খাত থেকে বৈদেশিক মূদ্রা বাংলাদেশে আসে তা হলো বিদেশে থাকা বাংলাদেশীদের পাঠানো অর্থ। বছরের শুরুর দিকে তাতে ভাটা পড়লেও তা আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশ।

গত কয়েক বছর ধরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ বাড়ছিলো। কিন্তু গত জুন মাসে এসে তা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের উপরে উঠে যায়।

মিডিয়াতে এসেছে এ বছর অর্থনীতির সবগুলো সূচকেই বাংলাদশ খুব ভালো করেছে। গত ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যে তথ্য প্রকাশ করেছে তা থেকে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে দেশের জিডিপি-র হার ছিলো ৭.২৮ যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি এবং দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

উন্নতি হয়েছে মাথাপিছু আয়েও, ১৯৭২ সালে যা ছিলো মাত্র ৬৭১ টাকা তা এখন বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা বা ১ হাজার ৬১০ ডলার।

তবে সাবেক গভর্ণর ফরাসউদ্দিনের মতে, এই প্রবৃদ্ধির সুফল সব মানুষ সমানভাবে পাচ্ছে না। সমাজে বৈষম্য বেড়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকাংশে ইইউ, ইউকে, ইউএস এর উপর নির্ভর করে। কেমন ছিলো তাদের অর্থনীতি?

ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনা চলেছে বছর জুড়ে। ইউকে-তে টনি ব্লেয়ারের জায়গায় এসেছেন থেরেসা মে। তিনি ইইউ-র সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য।

তবে জানা যাচ্ছে, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরো দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে ইউকে ইউ থেকে বেরিয়ে গেলে বিভিন্ন দেশের সাথে যে ব্যবসায়িক চুক্তি আছে সেগুলোর কি হবে?

আবার নতুন করে কি চুক্তি করতে হবে? বা করতে হলে তখন কেমন সুবিধা বা ছাড় দিতে হবে?

তবে ব্রেক্সিট এর প্রভাব দেখার জন্য আরো অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

আর এ দিকে সারা বছর ধরেই আলোচনায় ছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যদিও অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে তারপরও আমেরিকাতে বিনিয়োগকারি এবং ভোক্তারা আশাবাদী ছিলেন।

আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিলো খুবই ভালো ৩% আর শেয়ার মার্কেট ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। শেয়ার মার্কেট ভালো কারার পিছনে যুক্তি হলো কোম্পানিগুলো আগের তুলনায় বেশি মুনাফা করেছে এবং সম্প্রতি ট্যাক্স ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তবে হ্যা, ট্রাম্পের ফলে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব তো ছিলোই। তবে অনেকেই মনে করেন এই যে উন্নয়ন তা সঠিকভাবে বন্টন হচ্ছে না।

আর সবচেয়ে ভালো যে ইন্ডিকেটর বলা হচ্ছে তা হলো বেকারত্বের হার ছিলো কম যা ৪.১%। ইউএস অর্থনীতিবীদ আরউইন স্টেলজার বলেন, এই মূহুর্তে আমেরিকাতে ছয় মিলিয়ন চাকরী রয়েছে। শ্রমিক এর চাহিদা রয়েছে তাই পারিশ্রমিকের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে অনেক দিন পর। এসবই মানুষকে খুশি করছে, ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়ছে।

আমেরিকাতে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় একাধিক ভয়াণক হারিকেন আঘাত এনেছে। এর ফলে ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ড বারবুডাতে প্রায় ৯৫% ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। এবং পোয়ের্তো রিক-এ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

বলা হচ্ছে, গত তিন বছর ধরে কার্বন ডাইওক্সাইড হ্রাস পেলেও এবার তা বেড়েছে। এই কার্বন বেড়ে যাওয়ার কারনেই এতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ হচ্ছে যার ফলে ক্ষতি হচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার।

তবে এর জন্য পরিবেশবাদীরা উন্নত দেশকেই মূলত শিপ্ল-উন্নত দেশগুলোকেই দায়ী করছেন।

আমেরিকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়ে প্রাকৃতক নবায়নযোগ্য জ্বালীন উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে বলছেন পরিবেশবাদীরা।

কার্বন নিঃসরণ করার দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলো চায়না। এখন চায়না চেষ্ঠা করছে কার্বন নিঃসরণ কমাতে। চায়নার পরেই আছে ইনডিয়া। এখনো ইনডিয়া কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যপারে কিছু বলছে না।

কয়েক বছর ধরেই কার্বন ট্যাক্স চালু করার কথা বলা হচ্ছে। বাংলাদেশেও কার্বন ট্যাক্স চালু হবে বলে শুনা গিয়েছিলো। এই ব্যপারে বিশ্ব ব্যাংকের মতও আছে বলে জানা গেছে।

কিছু কিছু উন্নত দেশে ইতোমধ্যেই কার্বন ট্যাক্স চালু হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়েছে। এবং কেউ কেউ নবায়নযোগ্য জ্বালানীর দিকে ঝুকছেন। যারা কার্বন নিঃসরণ কমাবেন তাদের জন্য ইনসেন্টিভ রাখার কথা বলছেন পরিবেশবাদীরা।

তারা বলছেন, মাংশ খাওয়া কমিয়ে দিতে এবং প্লেনে কম উড়তে। কারন মাংস উৎপাদনে বিশ্বে ৬% কার্বন ডাইওক্সাইড নিঃসরণ হয়। আর প্লেনে উড়ার করার করানে ৩%।

কিন্তু প্লেনে উড়ার খরচ কমে যাওয়াতে এবং বিভিন্ন ধরনের অফারের কারনে গত বছরে ৭% প্লেনে উড়ার পরিমান বেড়েছে। উন্নত দেশগুলোকে এজন্য দায়ী করা হচ্ছে।

পৃথিবী যদি উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং একের পর এক বড় ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দেয় তাহলে একটি দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য যে ভেঙ্গে পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এমনকি দেশ বা মহাদেশ নিশ্চিহ্নও হয়ে যেতে পারে।

স্পোর্টস

মেসি না রোনালদো কার পায়ের দাম বেশি এটি নিয়ে একটি বীমা কোম্পানি গবেষণা করেছে। শিরোপা বা পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে নয়। এটা ঠিক করা হয়েছে তাদের পা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে তাদের ক্লাব বীমা কোম্পানির কাছ থেকে কতো ক্ষতিপূরণ পাবে সে ভিত্তিতে।

সেই গবেষণায় দেখা যায়, মেসির চেয়ে রোনালদো দ্বিগুণ এগিয়ে আছেন। রোনালদোর ক্লাব পাবে ১০ কোটি ইউরো। আর মেসির ক্লাব পাবে তার অর্ধেক অর্থাৎ ৫ কোটি ইউরো।

কিন্তু পারিশ্রমিকের দিক দিয়ে ঠিকই এগিয়ে আছেন মেসি। মেসি সাপ্তাহিক হিসেবে পারিশ্রমিক পান ৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর রোনালদো পান এর চেয়ে ১১ লাখ টাকা কম।

আর ট্রফির দিক দিয়েও এগিয়ে আছেন মেসি। এ পর্যন্ত তার ৫৫টি ট্রফি জিতা হয়েছে। তার চেয়ে রোনালদো মাত্র ২ টা কম জিতেছেন।

বীমা কোম্পানির কাছে তার পায়ের দাম মেসির চেয়ে দ্বিগূণ হলেও পারিশ্রমিকের দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকা রোনালদো এবার তার বেতন বাড়িয়ে নেয়ার কথা বলছেন। পাচ বার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন এবং তার গোলেই গ্রেমিওকে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

সাপ্তাহিক বেতনের দিক দিয়ে শীর্ষে আছেন ব্রাজিলিয়ান নেইমার। কিছু দিন আগেই বার্সেলোনা থেকে পিএসজি-তে ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে গিয়ে স্পোর্টস জগতে আলোড়ন তোলেন। তার সাপ্তাহিক বেতন ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন মেসি ৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা নিয়ে। আর তৃতীয় স্থানে আছেন রোনালদো। তার বেতন ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

এখন তিনি চাইছেন তৃতীয় স্থান থেকে প্রথম স্থানে যাওয়ার। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদের সাথে ২০২১ সাল পর্যন্ত থাকবেন। কিছুদিন আগে মেসি নতুন করে চুক্তি করে তার পারিশ্রমিক বাড়িয়ে নিয়েছেন যদিও সে নেইমারের উপরে উঠতে পারেন নি। সে ক্ষেত্রে রোনালদোও নতুন চুক্তি করে বেতন বাড়িয়ে নিতে পারেন। কিন্তু তাকে তার ক্লাব সবার চেয়ে বেশি বেতন দিবে কিনা তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

দেশের বাইরে খেলোয়ারদের টাকার কথা শুনলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ব্যাতিক্রম। তবে বিপিএল চালু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের আয়ও বাড়তে শুরু করেছে। যদিও প্রথম দিকে দলের মালিকপক্ষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো চুক্তির টাকা না দেওয়ার।

কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে বিপিএল। এবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর রাইডার্স। এই দলের অধিনায়ক মাশরাফি এই বার নিয়ে মোট চারবার বিপিএল শিরোপা জিতেছেন।

এই শিরোপা জিতে তারা প্রাইজমানি হিসেবে ২ কোটি টাকা পাচ্ছেন।

বিপিএল মানেই টাকার খেলা। এ জন্য খেলোয়ারদের কিনতেই বেশিরভাগ টাকা খরচ হয়ে যায়। এবার বিপিএল-এ সবচেয়ে ব্যয়বহুল দল ছিলো বেক্সিমকো গ্রুপের ঢাকা ডায়নামাইটস। তাদের বিনিয়োগ ছিলো প্রায় বিশ কোটি টাকা।

আর পনের কোটি টাকার কিছু বেশি খরচ করে দ্বিতীয় স্থানে ছিলো এবারের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ সাত কোটি টাকা ব্যয় করেছে ক্রিস গেইল-ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পেছনেই। তবে তাদের পিছে ব্যয় করা টাকা তারা তাদের দলকে জিতিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন।

সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল দল ছিলো সিলেট সিক্সার্স। তাদের ব্যয় ছিলো ১০ কোটি টাকার কিছু নিচে। এবং তারা তাদের খেলোয়ারদের সব পাওনা এরই মধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

বিরাট কোহলি এবং আনুশকা শর্মা বিয়ে করেছেন বছরের শেষ দিকে এসে ১১ ডিসেম্বর। তাদের এই জুটি মিডিয়াতে পরিচিত হয়েছে ‘বিরুশকা’ নামে। বলা হচ্ছে তাদের বিয়ে ইনডিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে দামি।

আনুশকা বিয়েতে যে লেহেঙ্গা পরেছেন তার দামই ছিলো প্রায় ৩০ লাখ রুপি। আবার কেউ কেউ বলছেন, ২৫ থেকে ৩০ লাখ রুপি।

প্রতিদিনই তাদের বিয়ের এবং তাদের কিভাবে দেখা তারপর প্রেম হয়েছে এগুলো মিডিয়াতে এসেছে।

বিয়ে করতে কোথায় কতো এবং কি জন্য খরচ করেছেন তা এসেছে নিয়মিত। এবং তাদের কার আয় কতো, কতো সম্পদ রয়েছে, বিজ্ঞাপন করে কে কতো টাকা আয় করেন এসব একের পর এক মিডিয়াতে এসেছে।

২৯ বছর বয়সী দুইজনের মধ্যে কোহলির মোট সম্পদের পরিমান ৩৮২ কোটি রুপি আর আনুশকার ২২০ কোটি।

দুইজনের আয়ই ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। কোহলি আস্তে আস্তে ধোনির জায়গা দখল করে নিচ্ছেন এটা শুনা যাচ্ছে। ধোনিই প্রথম ইন্ডিয়ান স্পোর্টস স্টার হিসেবে ফোর্বসের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেন। এই সময়িকীর চোখে মেসির চেয়ে ব্র্যান্ড মূল্যে এগিয়ে আছেন কোহলি যার অবস্থান সাত। আর মেসি আছেন নয় নাম্বার স্থানে।

তবে ব্যবসায়ীর দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন আনুশকা যদিও আয়ের দিক দিয়ে তিনি কোহলির চেয়ে পিছনে আছেন। মুভি প্রতি পারিশ্রমিক নেন ১০ কোটি রুপি। আর বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের জন্য নেন ৪ কোটি রুপি।

৩৬ কোটি রুপির ব্যবসায়িক বিনিয়োগ আছে তার। আছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে দুইটি মুভিও রিলিজ পেয়েছে এই হাউজ থেকে।

আছে মুম্বাইয়ে ২০ কোটি রুপির ফ্ল্যাট, মার্সিডিস, বিএমডব্লুসহ চারটি বিলাসবহুল গাড়ি।

কোহলির বছরে আয় ১২১ কোটি রুপি। এক আইপিএল খেলেই মাত্র দুই মাসে বেতন পান ১৪ কোটি রুপি।

আছে ৯ কোটি রুপির ফ্ল্যাট, অডি ও ভক্সওয়াগনসহ চারটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে তার।

বিরুশকা জুটির বিয়ে হয়েছে ইতালির জনপ্রিয় ‘ওয়েডিং ডেস্টিনেশন’ তাসকেনির বর্গ ফিনোচ্চিয়েতো-তে।

ফোর্বস-এর তালিকায় বিশ্বের মোট ২০টি ব্যয়বহুল ভেন্যুর মধ্যে এটির অবস্থান দ্বিতীয়। সপ্তাহে এর ভাড়া প্রায় এক কোটি টাকা।

এই জুটির ছবি তুলেছেন বিশ্ব বিখ্যাত ওয়েডিং ফটোগ্রাফার জোসেফ রাধিক। ছবি এবং ভিডিও ধারন করে কোহলির কাছ থেকে নিয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকা।

তবে এই ছবির স্বত্ব বিক্রি করে প্রচুর টাকা নিবেন এটা নিশ্চিত। তাদের বিয়ের ছবি প্রকাশ করার অনুমতি রয়েছে কয়েকটি শীর্ষ ম্যাগাজিন ও পত্রিকার। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ম্যাগাজিনও আছে এর মধ্যে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের নাম জানা যায়নি।

বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় এক দিনের বিজ্ঞাপনের জন্য আনুশকা নেন প্রায় দেড় কোটি রুপি আর কোহলি নেন প্রায় পাচ কোটি রুপি। অনেক এগিয়ে যে আছেন তা টাকার অংক দেখলেই বুঝা যায়।

এই বিষয়ে বাজার গবেষকরা বলছেন, এই বিরুশকা ব্র্যান্ড হিসেবে আরো মূল্যবান হয়ে উঠবেন যেমনটা হয়েছিলেন ভিক্টোরিয়া বেকহাম আর ডেভিড বেকহাম, ব্র্যাড পিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মিলে ব্র্যাঞ্জেলিনা।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ম্যান ইউ এবং ম্যান সিটির লড়াই যারা ‘ম্যাঞ্চেস্টার ডার্বি’ নামে পরিচিত।

তাদের এখন যে দল আছে বলা হচ্ছে এটা ইতিহাসের সবচেয়ে দামি। গত ডিসেম্বরে দুই দলের মধ্যে যে খেলা হয়েছে তাতে ম্যান ইউ-র খেলোয়ারদের মোট বাজার মুল্য ছিলো ৩০১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৩ হাজার ৩২২ কোটি টাকা।

আর অন্য দিকে ম্যান সিটির বাজার মূল্য এর চেয়ে কিছুটা বেশি। ৩৫৪.৯ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা।

তার মানে দাড়াচ্ছে ঐ খেলার মোট বাজার মূল্য ছিলো ৬৫৬.৩ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৭ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা!

দুই দলের মধ্যে সবচেয়ে দামি খেলোয়ার হলেন ম্যান ইউ ফরোয়ার্ড রোমেলু লুকাকু। তিনি ৯০ মিলিয়ন পাউন্ডে এভারটন থেকে এসেছেন। তবে আকাশচুম্বী খেলোয়ার যেমন আছেন তেমনি আবার বাজার মূল্য শুন্যের কোটায়ও আছেন। তারা টার্কিস দুই তরুণ মার্কাস রাশফোর্ড ও জেসে লিনগার্ড।

মুভি

২০১৭ সালে মোট ৬১টি মুভি রিলিজ পেয়েছে। এর মধ্যে কেবল নবাব ব্যবসা সফল হয়েছে বলে জানা গেছে। আর বাকি হাতে গোনা দুই-একটা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আনতে পেরেছে। তবে জানা গেছে এই ব্যবসা সফল হতে না পারার একটি কারন ছিলো পাইরেসি। অনেক বছর ধরেই এই অভিযোগ পাওয়া গেলেও এর কোন প্রতিকার দেখা যাচ্ছে না।

শাকিব খান ঢাকার চলচ্চিত্রে এককভাবে রাজত্ব করছেন। তার এবার ৫টি মুভি রিলিজ পেয়েছে। যৌথ প্রযোজনায় রিলিজ পাওয়া একমাত্র নবাব লাভজনক হয়েছে।

অনেকেই আশায় ছিলেন নতুন যারা মুভি বানাতে আসছেন তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো আইডিয়া নিয়ে কিছু মুভি রিলিজ দিয়ে হল মূখী করবেন দর্শকদেরকে। কিন্তু সে আশা আর বাস্তবে দেখা গেলো না।

কয়েক বছর ধরেই কলকাতা এবং ঢাকার মধ্যে দুই বাংলার মুভি আদান-প্রদান হচ্ছে। কিন্তু এবার ওপার বাংলা থেকে যে মুভিগুলো এসেছে তা দর্শক টানতে পারেনি বলে জানা গেছে। আবার আমাদের এখান থেকে যে মুভিগুলো যাচ্ছে তাও ভালো করতে পারছে না। তবে এক্ষেত্রে কেউ কেউ বলছেন, এখান থেকে ভালো মানের মুভিগুলো দেয়া হচ্ছে না।

বছরের শেষ দিকে এসে ঢাকা অ্যাটাক ভালো ব্যবসা করেছে। এই প্রথম বাংলাদেশী কোন মুভি রিলিজ দিয়ে কতো ব্যবসা করলো তা মিডিয়াতে এসেছে।

বাংলাদেশে বক্স অফিস প্রথা চালু না হওয়ার কারনে অনুমানের উপর নির্ভর করে কোন মুভি কতো ব্যবসা করেছে তা বলা হয়ে থাকে। ঢাকা অ্যাটাক মোট আয় করেছে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে মুভিটির পরিচালক সঠিক পরিমানটা নিশ্চিত করতে পারেন নি। তবে তিনি জানিয়েছেন, টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

৬ অক্টোবর রিলিজ পাওয়া আরিফিন শুভ অভিনিত এবং দীপঙ্কর দীপনের পরিচালিত মুভি ঢাকা অ্যাটাক ভালো ব্যবসা করার পর অনেকেই শাকিব খানের একক আধিপত্যের জায়গায় তার কথা ভাবছেন।

গত বছর আয়নাবাজি মুভি খুব ভালো করেছিলো। কিন্তু সেই মুভিও কতো ব্যবসা করেছিলো তা জানা যায়নি।

এবছর আলোচনায় ছিলো মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ডুব মুভি। এই মুভি নিয়ে মিডিয়াতে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। এর রিলিজ নিয়ে এক সময় সংশ্বয় দেখা দিয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা রিলিজ পেয়েছে।

মুভিটিতে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এর উপর নির্মিত বলে মনে করা হয়েছে। কিন্তু পরিচালক তা খোলাসা করেন নি।

মুভিটিতে ইরফান খান অভিনয় করেছেন। এতো বড় মাপের একজন বাংলাদেশের মুভিতে অভিনয় একটি ভালো দিক। তবে শেষ পর্যন্ত মুভিটি কেমন ব্যবসা করেছে তা আসেনি। দর্শক কেমন হয়েছে তাও মিডিয়াতে আসেনি। রিলিজ হওয়ার আগে মিডিয়াতে যতো উৎসাহ দেখা গিয়েছিলো তার সামান্যতমও রিলিজের পরে লক্ষ্য করা যায়নি।

ডুব সবচেয়ে বেশি বাজেটের মুভি এটা শুনা গেলেও ফারুকী তা নিশ্চিত করতে পারেন নি। মুভিটির প্রযোজক আব্দুল আজিজ মিডিয়াকে জানিয়েছেন মুভিটিতে তিনি ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

হালদা মুভি রিলিজ দিয়ে তৌকীর আহমেদ এই মুভিতে ভালো সাড়া পেয়েছেন। অনেকগুলো হলে মুভিটা রিলিজ পেয়েছে। কিন্তু সেই হলে দর্শক কেমন ছিলো এবং ব্যবসা কেমন করেছে তাও জানা যায়নি। তবে পরিচালক তৌকীর আহমেদ নিজেই জানিয়েছেন তার মুভিটা সেরকম বাণিজ্যিক ধারার না।

আর একদম শেষ সপ্তাহে এসে ২৯ ডিসেম্বর রিলিজ পেয়েছে গহীন বালুচর। তাই এই মুভি সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

ফেসবুক এ মুভি নিয়ে যেভাবে প্রশংসা করা হয় সেটা ভেবে হলে গিয়ে তেমনটা দেখা যায়না এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই মুভিগুলো হলে ছিলো প্রায় দর্শকহীন আবার কিছু কিছু সময় শো বন্ধ রাখার খবরও বেরিয়েছে।

তবে এবারের ৬১টি মুভির নাম থেকে কিছু আইডিয়া নিতে পারেন। ভবিষ্যতে যদি কখনো নাম রাখার প্রয়োজন হয় তাহলে এর সাহায্য নিতে পারবেন। যেমন, কিছু মুভির নাম হলো ধ্যাততেরিকি, ছিটকিনি।

বলিউডে এ বছরটা তেমন ভালো যায়নি। বহুবলী২ সব রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড করেছে। পদ্মাবতী ইতিহাস বিকৃতি করার অভিযোগে বার বার পিছিয়ে গেছে রিলিজের তারিখ। উগ্রবাদী রাজপুত করনি সেনাদলের আন্দোলনের কারনে ডিরেক্টর সঞ্জয় লীলা এবং অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকন আলোচনায় থেকেছেন সারা বছর ধরে।

শেষ পর্যন্ত এ বছর রিলিজ না পেয়ে ২০১৮ সালের ৫ বা ১২ জানুয়ারী রিলিজ পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

খানদের রাজত্বে ভাটা পড়ছে এ ধরনের খবর মিডিয়তে এসেছে। শাহ রুখ খানের জব হ্যারি মেট সেজল, সালমানের টিউবলাইট, আমিরের সিক্রেট সুপারস্টার বক্স অফিস হতাশ করলে এই ধরনের কথা উঠে। তবে বছরের একদম শেষ দিকে এক থা টাইগার এর সিক্যুয়াল টাইগার জিন্দা হ্যায় দিয়ে আবার ফিরে এসেছেন সালমান।

অন্য দিকে অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগন ও হৃতিক রোশন এ বছর ভালো করেছেন। অজয় দেবগনের গোলমাল অ্যাগেইন দেখিয়েছে অপ্রত্যাশিত সাফল্য। মাত্র তিন দিনেই মুভিটি পৌছে যায় ১০০ কোটির ক্লাবে।

মিউজিক

ইউটিউবের যুগে বাংলাদেশের মিউজিকের সাথে জড়িত শিল্পীদের আয় খুবই খারাপ যাচ্ছে কয়েক বছর ধরে। ইউটিউবে তাদের মিউজিক আপলোড করে কতোবার দেখা হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাদেরকে।

এবার ব্যান্ড ভাঙ্গা-গড়ার খবরই বেশি এসেছে মিডিয়াতে। সারা বছর ধরেই মাইলস থেকে শাফিন আহমেদ-এর আসা-যাওয়ার খবর বেরিয়েছে। দুই ভাইয়েরই মূলত দ্বন্দ্ব।

শাফিন বলেন, তার করা গানের রয়ালটির সমস্ত টাকা তার ভাই নিচ্ছে। ৬টি কোম্পানির সাথে সে একা চুক্তি করেছে এবং সমস্ত টাকা সে নিয়ে নিচ্ছে।

তিনি বলেন এ পর্যন্ত মাইলস থেকে ৮৪টি গান বেরিয়েছে। এর মধ্যে তার নিজেরই গাওয়া ৪৬টি।

মাইলস ব্যান্ড লিমিটেড নামে শাফিন আহমেদ ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে মাইলস আসলে কার?

এদিকে ব্যান্ড ছাড়ার কিছুদিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পরেশন নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আওন্দোলনের (এনডিএম) হয়ে প্রার্থী হচ্ছেন ব্যান্ড শিল্পী শাফিন আহমেদ।

এ দলের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের ছেলে এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের সবেক মুখপাত্র।

গাঙচিল মিউজিক ইউটিউবে ২ সেপ্টেম্বর ২০১৬-তে মমতাজ এর লোকাল বাস রিলিজ দিয়েছিলো। এক বছর পর গত অক্টোবরে জানা যায় মিউজিকটি এক কোটি বার দেখা হয়েছে। কিন্তু এই যে এতোবার মিউজিকটি দেখা হলো এর ফলে শিল্পীকে শুধু আত্নতুষ্টি নিয়ে থাকতে হয়েছে না কি এর থেকে কিছু আয়ও হয়েছে তা জানা যায়নি।

এতো জানলেন সারা বছর ধরে দেশের অর্থনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের খবর। একটা বছর শেষ হয়ে আরেকটা নতুন বছর আসছে।

নিশ্চয় গান গেয়ে বা শুনে আপনি এই বিশেষ দিনটি পালন করবেন। ঝাকঝমকভাবে পালন না করলেও একটি বছর চলে গেলো এবং আরেকটি বছর শুরু হতে যাচ্ছে নিশ্চয় আপনার মনে দুলা দিচ্ছে।

আপনি এই বিশেষ দিনে আপনার প্রিয় কিছু গান শুনতে পারেন এবং গানের সুরে সুরে বলতে পারেন,

গুডবাই ২০১৭!!

হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০১৮!!!

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply

Shares