Money

বিজনেস রিভিউ ২০১৮

December 31, 2018
Business Review Image

বছর জুড়েই দেশে বিদেশে আলোচনায় ছিলো ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থা, চায়না-ইউএস বাণিজ্য যুদ্ধ, টেক স্ক্যান্ডাল এবং বিজ্ঞাপন যুদ্ধ ইত্যাদি। স্পোর্টস-এ গত বছর হয়ে গেলো ফিফা বিশ্ব কাপ ২০১৮। এই বিশ্ব কাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে হয়েছে বিলিয়ন ডলারের বিজনেস। আর দেশে বছর শেষ হওয়ার আগের দিন হয়ে গেলো নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও হয়েছে বিলিয়ন ডলার বিজনেস। মুভি জগতে আলোচনায় ছিল দঙ্গল, বাহুবলী টু, সিক্রেট সুপার স্টার মুভির বক্স অফিসের নিউজ। এর বাইরে বিনোদন, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতেও বছর জুড়েই আলোচনায় ছিলো বিভিন্ন বিজনেসের খবর।

ইকোবিজ

নির্বাচন কমিশনের বেধে দেয়া নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটার প্রতি ১০ টাকা বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। ৩০০ আসনে নারী ভোটারের চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা কিছুটা বেশি। বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৫,২৫,৪৭,৩২৯টি এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৫,১৬,৪৩,১৫১টি। অর্থাৎ সর্বমোট ১০,৪১,৯০,৪৮০ জন ভোটার রয়েছেন।

৩০০ আসনের জন্য ৩৯ দল অংশগ্রহণ করেছে। নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৬৯ জন। অন্যদিকে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১,৭৭৯ জন। মোট ১,৮৪৮ জন প্রার্থী লড়াই করেছেন এই নির্বাচনে।

১,৮৪৮ জন প্রার্থী হয়তো সবাই সমান করে ভোটার প্রতি খরচ করতে পারেননি। কেউ কম বা বেশি করেছেন। খবর বেরিয়েছে, বেধে দেয়া টাকা থেকেও অনেক বেশি খরচ হয়। এই ধরনের অভিযোগ আমরা আগের নির্বাচনগুলোতেও শুনেছি। আমরা যদি গড়ে ২৫ লাখ টাকা করেও ধরি তাহলে মোট খরচ হওয়ার কথা ৪,৬২০,০০০,০০০ টাকা। অর্থাৎ ৪.৬২ বিলিয়ন টাকা!

যেখানে বিলিয়ন টাকা খরচ হচ্ছে সেখানে আরেকটি খবর বেরিয়েছে অনেক যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনি ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকার কারনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।

এই টাকার বাইরে রয়েছে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের খরচ। নির্বাচন কমিশনের জন্য ২০১৮-১৯ বাজেটে সরকার ১,৮৯৫ কোটি টাকা বরাদ্ধ রেখেছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন চেয়েছে ৭০০ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশন তাদের বরাদ্ধের চেয়ে কম চাইলেও টাকা চাওয়ার দিক দিয়ে এগিয়ে আছে আইন-সৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে চেয়েছে ৯৩২ কোটি টাকা। বিপরীতে তাদের জন্য নির্বাচন কমিশন বরাদ্ধ রেখেছিলো ৪০০ কোটি টাকা।

এই টাকার বাইরে আরো বিভিন্নভাবে টাকা খরচ হবে। চাঙ্গা হবে দেশের আনাচে-কানাচে থাকা প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রিন্টিং প্রেস থেকে শুরু করে পাড়া/মহ্ললার ছোট টং দোকানও নির্বাচনকে সামনে রেখে বাড়তি ব্যবসা করবে। লাখ লাখ মানুষ বাড়িতে যাবে ভোট দিতে এবং তারা আবার ফিরে আসবে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও যে ভালো ব্যবসা করবে তা ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা ফাকা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। এগুলো হিসেবের বাইরেই থেকে যাবে। আসলে নির্বাচনকে ঘিরে কতো বিলিয়ন টাকা খরচ হয়েছে তা কখনোই জানা যাবে না।

বাংলাদেশে নির্বাচনের মাঠ লেভেল প্লেইং করার জন্য যখন দাবি উঠছে সব দিক থেকে তখন বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে আমেরিকা তার দেশের বাণিজ্যিক মাঠ লেভেল প্লেইং করার জন্য চায়নার সাথে বাণিজ্য যুদ্ধে নেমেছে। দুই দেশই এখন ট্যারিফ- পাল্টা ট্যারিফ আরোপ করছে। এদিকে এই বাণিজ্য যুদ্ধের অনেকেই সমালোচনা করেছেন। ওয়ারেন বাফেট ট্রাম্পকে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেছেন।

ট্রাম্প তার পূর্বসূরিদের সমালোচনা করছেন অসম সুবিধা দেওয়ার জন্য। মূলত স্টীল এবং অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ীদের ভালোর জন্যই এই বাণিজ্য যুদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই খাতে ভালো করলেও বাকি খাতে ট্রাম্প ভালো করতে পারছেন না। দুই দেশই ১০% থেকে ২৫% পর্যন্ত অন্য দেশের পণ্যের উপর ট্যারিফ আরোপ করেছে।

বছরের একবারে শেষ দিকে খবর প্রকাশিত হয়, বাংলাদেশীরা মালয় সুন্দরীদের বিয়ে করে দেশে নিয়ে আসছেন। মালয়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এ কথা বলে তার দেশের তরুণদের সাবধান করে দেন। তিনি বলেন বাংলাদেশীরা কর্মঠ আর অন্যদিকে তার দেশের তরুণেরা অলস। এক হিসেব মতে মালয়শিয়াতে ২০ লাখ বাংলাদেশী কাজ করছেন।

সারা বছর ধরেই আলোচনায় থেকেছে ব্যাংক খাত। শুরুটা হয় ফার্মার্স ব্যাংক দিয়ে। এই ব্যাংকের প্রভাব পড়ে পুরো ব্যাংকিং খাতে। শুরু হয় ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট। পরের মাসেই জনতা ব্যাংক অ্যায়ানট্যাক্সের সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির খবর প্রকাশিত হয়।

এপ্রিলে সুদ হার এক অংকে নেমে আসে এবং তখন বলা হয় সহসাই এই হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। কয়েক মাস যেতেই জনতা ব্যাংক আবার সংবাদ শিরোনাম হয়। জনতা ব্যাংক এবার বেকায়দায় পড়ে ক্রিসেন্টের ৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে।

আর বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে সিপিডি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যের ভিত্তিতে এক আলোচনা সভায় জানায়, গত দশ বছরে ব্যাংক খাতে ২২.৫০ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে সরকারি ব্যাংকগুলো মূলধন চাহিদা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে বেসিক ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের মূলধন আশংকাজনকভাবে কম। ২০১৮ সালের জুনের হিসাব অনুযায়ী সরকারি ব্যাংকের মন্দ ঋণের পরিমান ২৮.২%। এটা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সিপিডি আয়োজিত সেই আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানুষ জানতে চায় কোন ব্যাংকে টাকা নিরাপদ। ব্যাংকিং খাত ঢেলে সাজানোর জন্য একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাবও করেন।

সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, একটি ব্যাংকের পরিচালন মুলধনের মাত্র ৭% থেকে ৯% অর্থের যোগান দেয় মালিকপক্ষ। আর ৯০%-র মতো যোগান দেন আমানতকারীরা। কিন্তু পরিচালনা বোর্ডে যারা নির্বাচিত হন তারা মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষা করেন। ৯০%-র মালিক জনগণের পক্ষে কেউ থাকেনা।”

তিনি আরো বলেন, “আগে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২%। কিন্তু সরকারের নিয়োজিত রাজনৈতিক চেয়ারপারসন খেলাপি ঋণ ৮০%-এ নিয়ে গেলেন। অথচ তাকে সরকার কিছুই করতে পারল না। এমনকি দুদকও না। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের দিন তিনি পদত্যাগ করে চলে গেলেন। অথচ সরকার তার কিছুই করল না।”

১০ বছর আগে ২০০৮ সালে পৃথিবীব্যাপি অর্থনৈতিক মন্দার কথা অনেকেরই হয়তো মনে আছে। এবং এর পেছনে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলোকে দায়ী করা হয় তাদের কর্মকর্তাদের লেভিস লাইফস্টাইলের কারনে। তখন থেকে ব্যাংকগুলো তাদের অপবাদ দূর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো।

কিন্তু সে অপবাদ বা লোভ তাদেরকে পিছু ছাড়েনি। ২০১৮ সালে এসে বিশ্বের সবচেয়ে নামি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস আবার অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পরে। ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ১এমডিবি শুরু করেন। সেখানে সরকারি কাজ আদায়ে ঘুষ লেনদেনে সহযোগিতার অভিযোগ উঠে ব্যাংকটির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আমেরিকা এবং মালয়শিয়াতে এখন এই নিয়ে তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে জানা যায়, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের লেভিস লাইস্টহাইলের পিছনে খরচ হয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলার। আর মালয়শিয়ান ফাইনান্সিয়ার জো লো এক রাতে নাইটক্লাবেই খরচ করেছেন ২ মিলিয়ন ডলার। এই বেসামাল টাকা খরচ একটা দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করার সাথে সাথে সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থায় প্রভাব ফেলে। এতো কর্পোরেট গভর্নেন্স বলেও তাদেরকে থামানো যাচ্ছে না।

ব্যাংকের পাশাপাশি সারা বছর ধরেই সমালোচনার মুখে ছিলো টেক কোম্পানিগুলো। প্রায় ৫ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে। এই ঘটনার পরে মার্ক জাকারবার্গ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এতে কাজ হয়নি। ফেসবুকের শেয়ারের দরপতন হয়। ৫৮ বিলিয়ন ডলার দাম কমে যায়।

এখন কেন এই তথ্য চুরি হয়েছে? এর কারন হলো, বিজ্ঞাপন। মানুষের বিহ্যাভিয়ার অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেখানোই আসল কথা। গুগলের বিরুদ্ধেও তাদের আরেক প্রতিষ্ঠান ইউটিউবে উগ্রবাদীদের ভিডিওর সাথে বিশ্বের সব নামি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে এই অভিযোগ উঠে। পরে তারা একে একে তাদের বিজ্ঞাপন ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেয়। এই ঘটনার পরে ইউটিউব ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

অনলাইনে বিজ্ঞাপন চলে যাচ্ছে যার কারনে আমাদের দেশীয় মিডিয়া হাউজগুলো বিজ্ঞাপন হারাচ্ছে। এই নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তবে এই ধাক্কা পশ্চিমা বিশ্বে আগেই লেগেছিলো। সেখানকার প্রিন্টিং মিডিয়া লোকসান দিচ্ছিলো। অনেক পত্রিকাই তাদের প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশে অনেকেই বলেন, অনলাইনে বিজ্ঞাপনে কোন ট্যাক্স-ভ্যাট দিতে হয় না। এটাও অসম প্রতিযোগিতা তৈরিতে সাহায্য করে। তাই সব মাধ্যমে ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপের দাবি উঠে।

সারা বছর ধরে রান্না ঘরের অবস্থা কেমন ছিলো? কেমন ছিলো পারিবারিক বাজেট? গেল বছর স্বস্তি দিয়েছে গৃহিনীদেরকে। তাদের বাজেট নিয়ে হয়তো মাথা ঘামাতে হয়নি। কারন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব মতে নভেম্বর পর্যন্ত দেশের মূল্যস্ফীতি ছিলো ৬% এর নিচে। এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিলো আরো কম। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন চাল, ডাল, তেল, আটা, পেয়াজ ইত্যাদির দাম বছর জুড়েই সহনীয় পর্যায়ে ছিলো। বিশ্ব বাজারেও পণ্যের দাম কমই ছিলো। অনেকেই হয়তো দাবি করবেন, এটা বিশ্ব বাজারের কারনেই সহনীয় পর্যায়ে ছিলো।

আকিজ গ্রুপের তামাক ব্যবসা কিনে নিচ্ছে জাপান টোব্যাকো ১৪৭.৬০ কোটি মার্কিন ডলারে। দেশের বাজারে আকিজের বাজার ২০%। এখন জাপান টোব্যাকো কিনে নেয়ার ফলে বাংলাদেশে তারা দ্বিতীয়  অবস্থান চলে আসবে। আকিজের ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে নেভি, শেখসহ আরো কিছু তামাকজাতীয় লাভজনক ব্যবসা। অন্যদিকে জাপান টোব্যাকো বিশ্বের ১৩০টি দেশে ব্যবসা করছে। তারা উইনস্টন, ক্যামেল, মেভিয়াস ব্র্যান্ডের সিগারেট বাজারজাত করে।

৩৩১,৭০,০২,৯০০ টাকায় হৃষিকেশ রোডে অবস্থিত রোজ গার্ডেন কিনে নেয় সরকার। ১৯৩১ সালে হৃষিকেশ দাস নামের এক ব্যবসায়ী প্রায় ২২ বিঘা জমির উপর তৈরি করেন বাগানবাড়ি। দোতলা বাড়িটির চারপাশ তিনি সাজান বিভিন্ন দেশ থেকে আনা দূর্লভ প্রজাতির গোলাপ বাগানে। সেই থেকে এই বাড়ির নাম হয় রোজ গার্ডেন।

কিন্তু দুখজনক হলো, কয়েক বছর ঘুরতেই তিনি দেউলিয়া হয়ে যান এবং বাড়িটি বিক্রি করে দেন। এই বাড়িটি পরে ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে যায়। ২৩ জুন ১৯২৩ সালে এই ভবনেই গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরে যা আজকের আওয়ামী লীগ।

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়েছে। ৩.৩ কেজি ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি জমা দেওয়ার সময় যা ৮০% বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। দুই বছর পর তা পরীক্ষা করে ৪৬.৬৬% সোনা পাওয়া গেছে। আর ২২ ক্যারেটের সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।

এই খবর মিডিয়াতে আসাতে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আর অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেছেন, সোনায় কোন হেরফের হয়নি। এবং কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ভল্টে রাখা সোনা ঠিক আছে। ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই উন্নত। ৪২টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তবে কষ্টি পাথর আর আধুনিক যন্ত্রের মাপে কিছু তারতম্য হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালে হ্যাকাররা ভুয়া ট্রান্সফার ব্যবহার করে ১০.১০ কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়। এর মধ্যে ২ কোটি চলে যায় শ্রী লংকা এবং বাকি অর্থ চলে যায় ফিলিপিনের জুয়ার আসরে। ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত কিছু অর্থ ফেরত আনতে পারলেও বাকি টাকা এখনো ফেরত আনতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ বছর মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর গৌরভ অর্জন করলো বাংলাদেশ। ৫৭-তম দেশ হিসেবে এই অর্জন করলো বাংলাদেশ। এখন এই স্যাটেলাইট আমাদের কি কাজে লাগবে? দেশের স্যটেলাইট টিভি চ্যানেল এখন সিঙ্গাপুরসহ আরো কিছু দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে সম্প্রচার করছে। এতে করে বছরে দিতে হয় প্রায় ১৭ কোটি টাকা। এখন আমাদের দেশের চ্যানেলগুলো যদি আমাদের স্যাটেলাইট ভাড়া নেয় তাহলে একদিকে যেমন খরচ কমবে তেমনি দেশের টাকা দেশেই রয়ে যাবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, মহাকাশে আমাদের অবস্থান তৈরি হয়েছে।

২০১৫ সালে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করা ই-কমার্স কোম্পানি দারাজকে চায়নার আরেক ই-কমার্স কোম্পানি আলীবাবা কিনে নেয়। এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারনেট গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠান ২০১২ সালে ব্যবসা শুরু করে। বর্তমানে তারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রী লংকা ও নেপালে ব্যবসা করছে।

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ১৬% শেয়ার কিনে নিচ্ছে চায়নার আলীবাবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট ফাইন্যান্সিয়াল। বিকাশে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে ৫১% আর বাকি শেয়ারের মালিক বিদেশি কোম্পানি। বিদেশি কোম্পানির ছেড়ে দেওয়া শেয়ারই কিনছে আলীবাবা। জানা গেছে পর্যায়ক্রমে ২০%-এ উন্নীত হবে।বিকাশের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি। প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ লেনদেন সম্পন্ন হয় যা টাকায় ৭০০ কোটি টাকা।

দেশের মোবাইল ফোন অপারেটররা বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ দিচ্ছেন তাদের গ্রাহকদেরকে। এইসব প্যাকেজের মূল্য ২৯, ৩৯, ৭৯, ১০৯, ২০৯ টাকা। এতে করে খুচরা এক টাকা রিচার্জ ব্যবসায়ীর কাছে না থাকার অজুহাতে গ্রাহকরা তা ফেরত পাননা। এতে করে গ্রাহকদের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মোবাইল রিচার্জ ব্যবসায়ীরা। ২০১৮ সালে শেষের দিকেএ ধরনের একটি খবর পত্রিকায় আসে।দেশে মোট সাড়ে ১৪ কোটি মোবাইল ফোন সংযোগ রয়েছে।

রিচার্জ ব্যবসায়ীদেরকে মোবাইল ফোন অপারেটররা হাজারে ২৭.৫০ টাকা থেকে ২৮.৫০ টাকা কমিশন দেয়। আর টেলিটক দেয় ৩০ টাকা। এর বাইরে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে বাড়তি প্রতি রিচার্জে ১ টাকা করে। মোবাইল ফোন অপারেটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকার রিচার্জ করা হয়। সে হিসাবে প্রতি মাসে কমপক্ষে ১,৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। বছরে ১৮ হাজার কোটি টাকা। প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকার লেনদেনে রিচার্জ ব্যবসায়ীরা কতো হাতিয়ে নিচ্ছেন তার কোনো হিসাব নেই।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আগামীতে কম্পিউটারাইজেশনের কারনে আমেরিকার প্রায় ৪৭% কর্মসংস্থান ঝুকির মধ্যে পড়বে। এর মধ্যে ৭০২ ধরনের কাজ পুরোপুরি মেশিনের হাতে চলে যাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঝুকির মধ্যে রয়েছে খাদ্য প্রস্তুত যা ৬৫%। এর পর রয়েছে অবকাঠামো এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ৫৯%, গাড়ি চালনা ৫৮%। সবচেয়ে কম ঝুকির মধ্যে রয়েছে শিক্ষকতা পেশা ২৮%। সব দেশে এই ঝুকির পরিমান এক নয়। দেশ ভেদে এই ঝুকির তারতম্য রয়েছে।

ফোর্বসের ২০১৮ সালের শীর্ষ ধনীর তালিকায় বিল গেটস কে সরিয়ে জায়গা করে নেন অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্স কোম্পানি আমাজানের মালিক জেফ বেজোস। তার সম্পদের পরিমান ১০০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। আমাজানে সে ১৬% শেয়ারের মালিক।

১৯৯৪ সালে একটি গ্যারাজ থেকে তিনি আমাজানের যাত্রা শুরু করেন। এখন সবাই জানেন তার আমাজানের সাম্রাজ্য কতো বিস্তৃত। এখন তার অধীনে রয়েছে সংবাদপত্র, রকেট কোম্পানি, কুপন ওয়েবসাইট, গ্রোসারিসহ ১৬টি প্রতিষ্ঠান। অনেকেরই হয়তো মনে পড়ছে, বিল গেটস যিনি মাইক্রোসফট এর মালিক দীর্ঘ দিন ধরে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ছিলেন তিনিও তার কোম্পানির যাত্রা শুরু করেছিলেন গ্যারাজ থেকে।

পাট চাষীর আনন্দ পাটে যেতে বসেছে, এই ধরনের একটি খবর প্রকাশিত হয় বছরের শুরুর দিকে। গত বছরের তুলনায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি মণ পাট। এবার পাট চাষ ভালো হওয়াতে চাষীদের মনে আনন্দ ছিলো কিন্তু দাম না পাওয়াতে তাদের সেই আনন্দ বেস্তে যেতে বসেছে। এই বার তারা পাট বিক্রি করছেন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ। তাদের অভিযোগ, পাট ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাষীদের কাছ থেকে পাট কিনছেন না। অন্যদিকে পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা আগের বছরগুলোতে যেই পাট কিনেছিলেন সেই পাটই তারা বিক্রি করতে পারছেন না। কাচা পাটের রপ্তানিও কম। তারা লোন নিয়ে যে পাট কিনেছিলেন সেই লোন পরিশোধ করা নিয়েই সংশয়ে আছেন।

বছরের একদম শুরুতে একটা আশা জাগানিয়া নিউজ ছাপা হয় পত্রিকায়। দেশে গরু-ছাগলের সংখ্যা বাড়ছে। এবং এর পেছনে রয়েছে বেকার তরুণরা। এর পেছনে দুইটি বিষয় কারন হিসেবে রয়েছে। এক. দেশে মাংসের দাম বেড়েছে। এবং দুই. ইনডিয়ায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গরু পাচার রোধে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এক হিসেব মতে বছরে ২০ লাখ গরু ইনডিয়া থেকে আসতো।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে দেশে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৪৫ হাজার। আগের বছরের চেয়ে ৩ লাখ ৮৮ হাজার বেশি। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা বেড়েছে দেড় লাখ।

বছরের শুরুতে ভালো খবরের পাশাপাশি একটি মন খারাপ করা খবর প্রকাশিত হয়, চিনিকলে এক যুগে লোকসান দিয়েছে ২১৭ কোটি টাকা। এর পিছনে যে কারনগুলো রয়েছে তাহলো উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, যান্ত্রিক ত্রুটি, বিপুল পরিমান চিনি অবিক্রিত থাকাসহ নানা কারনে এই লোকসান গুণতে হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে লোকসানের কারনে আর্থিক সংকটে পড়ে চিনিকলগুলো। এর কারনে কর্মচারী ও শ্রমিকদেরকে ঠিকমতো বেতন দিতে পারছে না চিনিকলগুলো।

গত কয়েক বছর ধরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্ধিপনার মধ্যে কর দিবস পালন হচ্ছে। মানুষের মধ্যে কর দেয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। জানুয়ারী মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বড় বড় ব্যবসায়ীদের নাম শীর্ষ করদাতার তালিকায় দেখতে না পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অনেক বড় বড় ব্যবসায়ীর নাম শুনি। তাদের শান-শওকত দেখে আমরা মুগ্ধ হই… কিন্তু এদের শীর্ষ করদাতার তালিকায় নাম দেখি না।”

স্পোর্টস

স্পোর্টস-এ ২০১৮ সালে প্রধান বিষয় ছিলো বিশ্ব কাপ ফুটবল আয়োজন। বিশ্ব কাপ ফুটবল-কে নিয়ে হয় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য। টিভি রাইটস, স্পন্সর, টিকিট বিক্রি সব মিলিয়ে অনেক টাকার খেলা। ১৪ জুন রাশিয়াতে বিশ্ব কাপের পর্দা উঠে এবং পর্দা নামে ১৫ জুন। রাশিয়া প্রথম থেকেই ভালো খেললেও এবার ফ্রান্স বিশ্ব কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। রাশিয়া বিশ্ব কাপ আয়োজনে খরচ করে ১১.৮ বিলিয়ন ডালার। এর আগের বার ব্রাজিল আয়োজক দেশ হিসেবে খরচ করেছিলো ১৫ বিলিয়ন ডলার।

আগস্ট মাসে জানা যায় ৮০ মিলিয়ন ইউরোতে স্প্যানিশ গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাহাকে কিনে নিচ্ছে চেলসি। এটাই একজন গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে এই খেতাব ছিলো ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক এএস রোমা। তাকে লিভারপুল কিনে নিয়েছিলো ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে।

মে মাসে খবর প্রকাশিত হয় ফ্রেন্স কাপে দুইটি অসম দল পিএসজি এবং লা হার্বিয়েস ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে। অনেকেই হয়তো জানেন, বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্লাব পিএসজি। তাদের এক বছরেই আয় হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো। এর আগে এই ক্লাবটি আলোচনায় আসে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারকে ২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনে নিয়ে। আর অন্য দিকে লা হার্বিয়েস-এর বার্ষিক বাজেট মাত্র ২ মিলিয়ন ইউরো যা নেইমারের ১৬ দিনের বেতনের সমান।

ফাইনাল খেলায় পিএসজি ৪০০ মিলিয়ন ইউরোর স্কোয়াড নিয়ে লা হার্বিয়েসের বিপক্ষে নামে। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, ডজন খানেক গোলে হারিয়েছে পিএসজি। কিন্তু তা হয়নি, মাত্র ২-০ ব্যবধানে হেরেছে লা হার্বিয়েস। বলতেই হবে, অনেক ভালো খেলেছে।

ক্রিকেটার তাসকিন সিনেমার নায়ক হতে যাচ্ছেন এই গুঞ্জন বছরের শুরুতে শুনা গিয়েছিলো। ফেসবুক নামের মুভিতে ক্রিকেটারের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এই অফার এসেছিলো। এটাই প্রথম না, এর আগে তিনি আরেকটি মুভিতে মাত্র ৮ দিন অভিনয়ের জন্য ৫০ লাখ টাকা পারিশ্রমিকের অফার পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাসকিন রাজি হননি। তিনি এতো টাকার লোভ ছেড়ে দিয়েছেন একমাত্র ক্রিকেট নিয়ে থাকার জন্য।

১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে চ্যাম্পিয়নস লিগে মাঠে নামে রিয়াল মাদ্রিদ এবং পিএসজি। তাদের খেলা দেখার জন্য অনলাইনে টিকিট ছাড়ার মাত্র ৩৭ মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু চমক লাগার বিষয় হলো টিকিটের দাম উঠেছিলো ২৪ হাজার ৮০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা! মাত্র ৯০ মিনিটের জন্য এই বিশাল টাকা। অবশ্য প্রিয় দল বলে কথা।

একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্বের দামি ১০০ ফুটবলারের তালিকা করে। সেখানে দেখা যায় প্রথমে রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। তার মূল্য ধরা হয়েছে ২১.৩০ কোটি ইউরো যা রোনালদোর মূল্যের দ্বিগুন। রোনালদোর মূল্য ৮.৪ কোটি ইউরো। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। তার মূল্য ২০.২২ কোটি ইউরো। এই মূল্য নির্ধারনে খেলোয়াড়ের বয়স, পজিশন, চুক্তির মেয়াদ, পারফরম্যান্স ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়েছে।

২০১৭ সালে আর্জেন্টাইন তারকা তেভেজ পাড়ি জমান চায়নায় শেনহুয়া দলে। দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। বছরে পাবেন ৪০ মিলিয়ন ডলার। দুই বছরে পাবেন ৮০ মিলিয়ন ডলার। এই নিউজ তখন ফুটবল বিশ্বে তাক লাগিয়ে দেয়। কারন আরেক আর্জেন্টাইন তারকা মেসি এবং তেভেজ তখন বার্ষিক ২০ মিলিয়ন ইউরোর কিছু বেশি বেতন পেতেন।

যাই হোক, এক বছর যেতে না যেতেই শুনা গেলো তিনি শেনহুয়া ছেড়ে দিচ্ছেন। আসলে সময়টা ভালো যায়নি তেভেজের। চায়না মনে করে ছিলো, এতে করে চায়নার ফুটবলের অনেক উন্নতি হবে। সেটা ভেবেই তারা তেভেজের পিছনে এতো বড় বিনিয়োগ করেছিলো।

কিন্তু বিনিময়ে শেনহুয়া পেয়েছে এক বছরে চার গোল। অর্থাৎ ৪০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে মাত্র চার গোল। গোল প্রতি ১০ মিলিয়ন ডলার!

ক্রিপ্টো-কারেন্সি নিয়ে অনেক হইচই চলছে। এটা আমাদের দেশে অবৈধ। কিন্তু বাইরের দেশে এটা পুরোদমে মার্কেটিং চলছে। এর সাথে যেমন জড়িত হচ্ছেন বিশ্বের বড় বড় ক্লাব আবার তেমনি জড়িত হচ্ছেন বিশ্বের নামিদামি খেলোয়াড়।

বছরের শুরুতে আর্সেনাল চুক্তিবদ্ধ হয় কেশবেট নামক ক্রিপ্টো-কারেন্সি প্রমোট করার জন্য। ক্রিপ্টো-কারেন্সি ডিজিটাল ক্যাশ নামে পরিচিত। ধারনা করা হয়, এ ধরনের ডিজিটাল ক্যাশ রয়েছে প্রায় ১,৫০০ টি। মে মাসে খবর বের হয় লিওনেল মেসিও ক্রিপ্টো-কারেন্সি প্রমোট করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন।

আইপিএল মানেই টাকার খেলা। বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে খবর বের হয় আইপিএল-এ সবচেয়ে দামি খেলোয়ার এখন বিরাট কোহলী। রয়াল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুর তাকে ২.৬৭ মিলিয়ন ডলার দিয়ে রেখে দিয়েছে। এর আগে এই অবস্থানে ছিলেন এমএস ধনী। তিনি চেন্নাই সুপার কিংস থেকে পান ২.৪ মিলিয়ন ডলার।

বিনোদন

২০১৮ সালের শেষ দিকে এসে খবর প্রকাশিত হয়, এ যাবৎ কালের সবচেয়ে ব্যয় বহুল বিয়ে হয়েছে আমাদের পাশের দেশ ইনডিয়াতে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় ইনডিয়ার সেরা ধনী মুকেশ ধীরুভাই আম্বানির মেয়ে ইশা আম্বানির বিয়ে হয়েছে আরেক ধনকুবের অজয় পিরামলের ছেলে আনন্দ পিরামলের সাথে। এই বিয়েতে খরচ হয়েছে ১০ কোটি ডলার। মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমান ৪,৩৭০ কোটি ডলার।

এই বিয়েতে এসেছিলেন আমারিকার সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন। গান গাইতে এসেছিলেন বিয়ন্সে। বিয়ন্সে এ অনুষ্ঠানে গান গাইতে কতো নিয়েছিলেন তা জানা যায়নি। এই বিয়েতে বলিউডের মহাতারকারাও এসেছিলেন। অতিথিদের বিয়ের অনুষ্ঠানে আনা হয় উড়োজাহাজে করে।

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা হিলারি ক্লিনটন এর মেয়ে চেলসি বিয়ে করেন গোল্ডম্যান স্যাক্সসের কর্মকর্তা মার্ক মেজভিনস্কিকে। তাদের বিয়ে হয় ২০১০ সালে এবং খরচ হয়েছিলো ৫০ লাখ ডলার। এটি বিশ্বের সপ্তম ব্যয়বহুল বিয়ে।

দক্ষিণ ইনডিয়ার মালয়ালাম অভিনেত্রী প্রিয়া প্রকাশ ওয়ারিয়র এর কথা সবারই মনে আছে আশা করছি। সবাইকে চোখের ইশারায় মাত করেছিলেন তিনি। ০৯  ফেব্রুয়ারি তার একটি মিউজিক ভিডিও ইউটিউবে আপলোড হয় যেখানে তার চোখের ইশারা ছিলো। সেই চোখের ইশারা ভাইরাল হয় এবং তিনি রাতারাতি তারকা বনে যান। তারপর শুরু হয় তাকে নিয়ে মুভি বানানোর হিরিক। তার চোখের ইশারায় মাত হন রাহুল গান্ধীও। তার ভ্রু নাচানো একটি ছবি অনলাইনে প্রকাশ হলে এ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। ইনডিয়াতে গত বছর গুগল সার্চ ইঞ্জিনে প্রিয়া প্রকাশের নাম সবচেয়ে বেশি খোজা হয়।

কোন তারকার আয় কতো? এ নিয়ে সব সময়ই মানুষের মধ্যে একটা আগ্রহ থাকে। এবার নিয়ে টানা তিনবার প্রথম স্থান ধরে রেখেছেন সুলতান খ্যাত সালমান খান। ফোর্বস ইনডিয়ার তালিকা অনুযায়ী তার আয় ৩,১৪০ কোটি রুপি। গত বছর ছিলো ২,৬৮৩ কোটি রুপি।

গত বার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শাহ রুখ খান চলে গেছেন ১৩-তম স্থানে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিরাট কোহলি যার আয় ২২৮.৯ কোটি রুপি এবং তিন নম্বরে আছেন অক্ষয় কুমার। তার আয় ১৮৫ কোটি রুপি। আমির খান এবং অমিতাভ বচ্চন রয়েছেন যথাক্রমে ষষ্ট এবং সপ্তম স্থানে। নারী তারকাদের মধ্যে প্রথমে রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। তার আয় ১১২.৮ কোটি রুপি।

ইউটিউবে ভিডিও ব্লগিং করে অনেকেই আয় করছেন। এ বছর টপ ১০ আয় করা নামের তালিকায় উঠে এসেছে মাত্র সাত বছরের ছেলে রায়ান। তার বার্ষিক আয় ২ কোটি ডলারের উপরে। সে নিজে গেম খেলে এবং তার উপর রিভিউ দেয়। এটাই ভিডিও আকারে তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করে। এ থেকেই তার এই বিশাল আয়। সে এই বয়সে এতো টাকার কিছু না বুঝলেও সে গেম খেলে যে মজা পায় এবং মানুষকে বিনোদন দেয় এটা বুঝতে পারে।

ইউটিউবে তার ফলোয়ার সংখ্যা ১.৭৩ কোটি। এখন পর্যন্ত তার চ্যানেলে ভিউ এর সংখ্যা ২,৬০০ কোটি বার।

এক সময়ের সিডি বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম ওরফে হিরো আলম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন। প্রথমে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে নমিনেশন চেয়েছিলেন। না পেয়ে পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। বগুড়া সদরের এরুলিয়া গ্রামে তিনি সিডি বিক্রি করতেন। পরে কেবল সংযোগের ব্যবসা শুরু করেন। এবং এক সময় মিউজিক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে প্রকাশ করা শুরু করেন। প্রায় ৫০০ মিউজিক ভিডিও এবং ৮০টি ইউটিউব চলচ্চিত্র ছড়িয়ে পড়ে ইউটিউবে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় তাকে নিয়ে ট্রল হয়। বলিউড পরিচালক প্রভাত কুমারের ‘বিজু দ্য হিরো’ নামে একটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন।

ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ২০১৬ সালে হিরো আলমের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এ নিয়ে বিবিসি হিন্দি, জি নিউজ, এনডিটিভি, ডেইলি ভাস্কর, মিড-ডের মতো ইনডিয়ার প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে নিয়ে রিপোর্ট করে। সেখানে তাকে বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকা বলে উল্লেখ করা হয়। ইয়াহু ইন্ডিয়ার জরিপে দেখা গেছে, গুগলে সালমান খানের চেয়েও বেশিবার খোজা হয়েছে হিরো আলমকে।

বাংলাদেশে এখন কয়েক ডজন টিভি রয়েছে। এখন হয়তো সবগুলো টিভির নামও বলতে পারবেন না অনেকে। কিন্তু ভীতির বিষয় হলো, ক্যাসেটে বা সিডিতে মিউজিক বা মুভি দেখা এখন যেমন অতীত হয়ে গেছে তেমনি নেটফ্লেক্স এর কারনে টিভিও এক সময় অতীত হয়ে যাবে বলে শংকা করছে। সারা পৃথিবীতেই নেটফ্লেক্স তার প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে এবং দর্শকদের টিভি বিমুখ হচ্ছেন।

মুভি

জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা গল্প নিয়ে তৈরি দেবী মুভির রিলিজ নিয়ে বিপত্তি ঘটে। সমস্যাটা হয় লেখকের মেয়ে শীলা আহমেদ ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে। নুহাশ হুমায়ূন বলেন, শুধুমাত্র শাওন তার বাবার লেখার উত্তরাধিকারী না। তারা চার ভাই-বোনও রয়েছেন। সাথে সাথে তিনি এও বলেন, লেখকের ভাই আরেক জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবালের অনুমতিও যথেষ্ট নয়।

পরে দেবী মুভির প্রযোজক জয়া আহসান হুমায়ূন আহমেদ এর প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন এর সাথে দেখা করেন এবং এর জন্য দুখ প্রকাশ করেন। তারপরেই মুভি রিলিজ নিশ্চিত হয়। সরকারি অনুদানে মুভিটি নির্মিত হয়।

আয়নাবাজি, ঢাকা অয়াটাকসহ কিছু মুভি বিদেশে রিলিজ দেয়া হয় এবং এতে করে ভালো সাড়া পায় নির্মাতারা। এরপর অনেকেই উৎসাহি হন দেশের বাইরে মুভি রিলিজ দিতে এবং মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ করতে।

তবে আরেক খবরে জানা যায়, উপরে উল্লেখিত মুভি ব্যবসা সফল হলেও লাভের মুখ দেখেনি মুভিগুলো। আয়নাবাজি মুভির ডিরেক্টর অমিতাভ রেজা বলেন, মুভিটি তৈরিতে মোট খরচ হয়েছিলো প্রায় দুই কোটি টাকার মতো। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাতে পেয়েছে ১.৫ কোটি টাকা। হল মালিকদের কাছে দেড় বছর ধরে বাকি পড়ে আছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। মুভিটির প্রডিউসার জিয়াউদ্দিন আদিল বলেন, ঢাকার বাইরের হলগুলো বিভিন্ন অজুহাতে বকেয়া টাকা দিচ্ছে না। হিসেবের গরমিলের কথাও বলেন। তাদের হিসেবে ৩০ লাখ দর্শক মুভিটি দেখেছেন।

জানা যায় ঢাকা অ্যাটাক মুভিটি তৈরি করতে খরচ হয়েছিলো ৩.২৫ কোটি টাকা। কিন্তু হাতে পেয়েছেন ১.৮৫ কোটি টাকা। মুভিটিতে অভিনেতা আরিফিন শুভর হিসেব মতে, আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে টিকিট প্রতি গড়ে ৯ টাকা করে পাওয়ার কথা। সে হিসেবে ২.৭ কোটি টাকা প্রডিউসারের হাতে আসার কথা। কিন্তু এই টাকা হল থেকে প্রডিউসার পর্যন্ত আসার পথে হারিয়ে যাচ্ছে।

বলিউডে গত বছর বাহুবলী টু বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। ব্যবসার দিক দিয়ে প্রথম দিনেই বাহুবলী টু চায়নাতে দঙ্গল মুভির উপরে উঠে যায়। বাহুবলী টু চায়নাতে সাত হাজার হলে রিলিজ হয়। ঠিক একই সংখ্যক হলে দঙ্গল মুভিও রিলিজ হয়েছিলো। এক দিনেই মুভিটি আয় করে ২.৮৫ মিলিয়ন ডলার।

চায়নাতে প্রথম স্থানে আছে আমির খানেরই আরেক মুভি সিক্রেট সুপার স্টার। দ্বিতীয় স্থানে আছে ইরফান খানের হিন্দি মিডিয়াম। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাহুবলী টু।

জয়া আহসান দেশে ভালো ভালো মুভিতে অভিনয়ের পাশাপাশি কলকাতাতেও একের পর এক অভিনয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছেন। মার্চ ২০১৮ সালের এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, দুইটি মুভিতে কাজ করতে যাচ্ছেন জয়া আহসান। বিরসা দাশগুপ্ত পরিচালিত ক্রিসক্রস এবং শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা রায় পরিচালিত কন্ঠ মুভিতে।

দীপিকা পাড়কন অভিনীত ডিরেক্টর সঞ্জয় লীলা বানসালির মুভি পদ্মাবতী নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। এর জের ধরে মুভিটির রিলিজ আটকে যায় সে দেশের সেন্সর বোর্ডের কাছে। পরে মুভির কিছু দৃশ্য কাট ছাট করে এবং নাম পদ্মাবতী থেকে পদ্মাবত করে মুভির রিলিজ দেন।

রাত অউর দিন মুভিটি রিলিজ পেয়েছিলো ১৯৬৭ সালে। নার্গিস দত্ত মুভিটিতে অভিনয়ের জন্য পরের বছর জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। জানা যায় সেই মুভিরি রিমেক হতে যাচ্ছে যাতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন যোধা আকবর অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই। আর এজন্য তিনি পারিশ্রমিক চেয়েছেন ১০ কোটি রুপি।

এর কারন হিসেবে জানা যায়, মুভিটি তৈরি করতে একটা লম্বা  সময় লাগবে এবং এই সময়ে তিনি অন্য কোন মুভিতে কাজ কর‍তে পারবেন না। তাই তিনি এতো রুপি চেয়েছেন। প্রডিউসার প্রেরণা আরোরাও এই রুপি দিতে রাজি হয়েছেন বলে খবরে জানা গেছে।

মিউজিক

গ্র্যামি পুরস্কার জয়ী ব্রিটনি স্পিয়ার্স ২০০৪ সালে মার্কিন ডিজে ও র‍্যাপার কেভিন ফেডারলাইন-কে বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের তিন বছরের মাথায় ২০০৭ সালে বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের দুজনের সংসারে দুই ছেলে রয়েছে। তাদের লালন-পালন করার জন্য ব্রিটনি প্রতি মাসে কেভিনকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার দিতেন। কিন্তু কেভিন ফোন দিয়ে ব্রিটনির বাবার কাছে আরো অর্থ দাবি করেন। এতো অর্থ কোথায় খরচ করেন তা জানতে চাইলেও এর কোন উত্তর কেভিন দেননি।

তবে জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে ব্রিটনি সিরিজ কনসার্ট করে যাচ্ছেন যেখান থেকে তার আয় হয়েছে ৪.৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। এই অর্থের উপরই নজর পড়েছে কেভিনের।

বছরের একদম শুরুর দিকে ২৩ জানুয়ারি জানা যায় ইমরান খানের মন খারাপের দেশে মিউজিক ভিডিও কোটি বার দেখা হয়েছে ইউটিউবে। মিউজিকটি ১৫ মে ২০১৭ সালে সিএমভি-র ব্যানারে ইউটিউবে প্রকাশিত হয়। এজন্য শিল্পী এবং প্রডিউসার উভয়েই আনন্দিত। কিন্তু এই মিউজিক থেকে তারা কতো আয় করেছেন তা জানাননি। ইউটিউব চ্যানেল থেকে কে কতো আয় করেছেন তা প্রায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু আমাদের দেশের অনেকেই এটা প্রকাশ করেন না। মিউজিকটি ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ২.২২ কোটি বার দেখা হয়েছে।

তবে এ বছর সব কিছুকে ছাপিয়ে যায় আরমান আলিফ-এর অপরাধী মিউজিকটি। মিউজিকটি ২৬ এপ্রিল ২০১৮ সালে ঈগল মিউজিকের ব্যানারে ইউটিউবে আপলোড হয়। তারপর মিউজিকটি খুব দ্রুতই কোটিবার দেখার রেকর্ড অতিক্রম করে। অনেক তরুণের কাছে এই গানটি জনপ্রিয় হয়। তাদের জীবনের সাথে মিউজিকটির লিরিকস মিলে যায় বলে বলেছেন। পরে মিউজিকটির ফিমেল ভার্সনও বের হয় সেটাও জনপ্রিয়তা পায়। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত অপরাধী মিউজিকটি ১৯.৮৩ কোটিবার দেখা হয়েছে। এই মিউজিক থেকেও কতো আয় হয়েছে তা জানা যায়নি।

আপরাধী মিউজিকের সাফল্যের পর তার আরেকটি মিউজিক নেশা ইউটিউবে ২০ আগস্ট ২০১৮ জি-সিরিজ প্রকাশ করে। এই মিউজিকটি অপরাধীর মতো শ্রোতাপ্রিয়তা না পেলেও কোটিবার দেখার রেকর্ড অতিক্রম করে। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ মিউজিকটি ৫.৫৬ কোটিবার দেখার রেকর্ড অতিক্রম করে।

মিউজিক বিজনেস মন্দা যাচ্ছে এটা কয়েক বছর ধরেই শুনা যাচ্ছে। এককালে ক্যাসেট, তারপর সিডি বিক্রি করে যে আয় হতো তা অনলাইনের যুগে এসে বন্ধ হয়ে যায়। তারপর ইউটিউব-এ মিউজিক ভিডিও আপলোড করে কার মিউজিক কতোবার দেখা হয়েছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে এই ব্যবসার সাথে জড়িতদেরকে।

কোরিয়ান পপ বা কে-পপ এর মিউজিক অনেকেই হয়তো শুনেছেন। এই একক ব্যান্ডটি গেল বছর ইউএস অ্যালবাম চার্টের শীর্ষে উঠে আসে। তার মিউজিকের বিশেষত্ব হলো, লেভিস প্রোডাকশন এবং করিওগ্রাফি। এর সাথে লিরিক্স। তবে তার জনপ্রিয়তার বা পরিচিতির মূলে ছিলো ইউটিউব। এর মাধ্যমে সারা পৃথীবিতে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। মিউজিক জার্নালিস্ট টেইলর গ্ল্যাসবি বলেন, আসলে প্রযুক্তিই সব।

নতুন বছরটি আর্থিকভাবে সবার ভালো কাটুক এই শুভ কামনা করছি।

গুড বাই ২০১৮!

হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০১৯!!

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply

shares